Homeটেকনলজি ও গ্যাজেটসটেক নিউজপুরনো ডিশ অ্যান্টেনার দিন শেষ! আসছে ‘অ্যারেলিঙ্ক’ প্রযুক্তি

পুরনো ডিশ অ্যান্টেনার দিন শেষ! আসছে ‘অ্যারেলিঙ্ক’ প্রযুক্তি

-

মহাকাশে থাকা হাজার হাজার আধুনিক স্যাটেলাইট এখনো পর্যন্ত মাটির সঙ্গে যোগাযোগের জন্য অনেকটাই নির্ভরশীল ১৯৭০-এর দশকের সেই পুরনো, বড় আকারের গোল্ড-ডিশ অ্যান্টেনার উপর। তবে এবার সেই পুরনো প্রযুক্তিকে পেছনে ফেলার পথে বড় অগ্রগতি এসেছে। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা তৈরি করেছেন ‘অ্যারেলিঙ্ক (Array Link)’ নামে এক নতুন প্রযুক্তি, যা স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের গতি ও সংযোগ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ নতুন স্তরে নিয়ে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

কী এই ‘অ্যারেলিঙ্ক’ প্রযুক্তি?

পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইটগুলো প্রায় ঘণ্টায় ২৮ হাজার কিলোমিটার গতিতে ঘুরে চলায়, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। প্রচলিত গোল ডিশ অ্যান্টেনাগুলোকে বারবার শারীরিকভাবে দিক পরিবর্তন করতে হয় বলে মাঝে মাঝে ইন্টারনেট সংযোগ কয়েক সেকেন্ডের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই সমস্যার সমাধান হিসেবেই এসেছে ‘অ্যারেলিঙ্ক’, যা কোনও গোল ডিশ নয় বরং ল্যাপটপের মতো দেখতে ফ্ল্যাট ফেজড অ্যারে ডিভাইস, যা নড়াচড়া ছাড়াই ইলেকট্রনিকভাবে রেডিও তরঙ্গকে নির্দেশ করে স্যাটেলাইটকে ট্র্যাক করতে পারে, ফলে নিরবচ্ছিন্ন ও আরও স্থিতিশীল সংযোগ পাওয়া সম্ভব বলে দাবি করা হচ্ছে।

- Advertisement -

উল্লেখ্য, বিজ্ঞানীরা বিশাল ডিশ বসানোর বদলে ছোট এবং সস্তার ১৬ টি অ্যান্টেনা প্যানেলকে প্রায় এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যেই বিভিন্ন বাড়ির ছাদ বা মোবাইল টাওয়ারে ছড়িয়ে দিয়েছেন বলেই খবর। এরপর একটি বিশেষ সফটওয়্যারের সাহায্যে সেগুলিকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এই ছোট প্যানেলগুলো একটি নিখুঁত দলের মতোই কাজ করে, আর বড় বড় ডিশের সমান শক্তি উৎপন্ন করে। ল্যাব টেস্টে দেখা গিয়েছে যে, এই সিস্টেমটি সাধারণ ডিশ অ্যান্টেনার তুলনায় আনুমানিক ৩ গুণ বেশি গতিতে ডেটা ট্রান্সফার করতে পারে।

সাধারণ মানুষ কী সুবিধা পাবে?

এই প্রযুক্তির অন্যতম বড় সুবিধা হলো, এটি প্রচলিত বিশাল ও ব্যয়বহুল অ্যান্টেনা ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মতো কোটি কোটি টাকার সেটআপের প্রয়োজন করে না—সহজেই বাড়ি বা অফিসের ছাদে বসানো সম্ভব। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে এই ধরনের ফেজড অ্যারে প্রযুক্তির মাধ্যমে সাধারণ মোবাইল টাওয়ারকেও স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনে রূপান্তর করা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে পরিকাঠামো খরচ কমে গেলে সাধারণ মানুষ আরও সহজে স্থায়ী হাই-স্পিড স্যাটেলাইট ইন্টারনেট এবং সরাসরি মোবাইলে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা পেতে পারে।

- Advertisement -
- Advertisement -
Breaking News
- Advertisement -
Related Stories
- Advertisement -