গরমের দিনে কাঁচা আম যেন এক আলাদা স্বস্তির নাম। টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফল দিয়ে শরবত থেকে শুরু করে মাখা—সবকিছুই খেতে দারুণ লাগে। আর বাঙালির প্রিয় খাবারের তালিকায় চিংড়ি মাছের নানা পদ তো রয়েছেই। তবে সাধারণ চিংড়ি ভাপার বদলে যদি কাঁচা আমের টক স্বাদ মিশে যায়, তাহলে কিন্তু জমে যেতে পারে পুরো দুপুরের ভোজ। কাঁচা আমের চিংড়ি ভাপা এমনই এক দুর্দান্ত রেসিপি, যেখানে সর্ষে, কাঁচালঙ্কা আর আমের হালকা টক মিলিয়ে তৈরি হয় একেবারে লোভনীয় স্বাদ। গরম ভাতের সঙ্গে এই পদ খেলে আলাদা করে আর কিছু লাগবে না। আর সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হল, খুব কম সময়েই সহজ উপকরণে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলা যায় এই সুস্বাদু রান্না।
উপকরণ
কাঁচা আমের চিংড়ি ভাপা বানানোর জন্য যে সকল উপাদানের প্রয়োজন, সেগুলি হল – কাঁচা আম, আলু, মাঝারি সাইজের চিংড়ি মাছ, কচু, কাঁচা লঙ্কা, সর্ষে, পোস্ত, নুন, নারকেল কোড়া, হলুদ গুঁড়ো, চিনি, চিংড়ি মাছ, সর্ষের তেল।
রান্নার পদ্ধতি
কাঁচা আমের চিংড়ি ভাপা বানাতে প্রথমেই বাজার থেকে আনা চিংড়ি মাছ ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর কাঁচা আমের খোসা ছাড়িয়ে সরু ও লম্বা করে কুচি করে কাটতে হবে। একইভাবে আলু ও কচুর খোসা ছাড়িয়ে আমের মতো লম্বা লম্বা করে কেটে রাখতে হবে। কাঁচালঙ্কাগুলো মাঝখান থেকে চিরে নিলেই প্রস্তুতি প্রায় শেষ। এবার একটি ব্লেন্ডারে সর্ষে, পোস্ত, সামান্য নুন ও কয়েকটি কাঁচালঙ্কা দিয়ে মিহি করে বেটে নিতে হবে। তারপর একটি বড় পাত্রে কাঁচা আম, আলু, কচু ও লঙ্কার কুচি নিয়ে তার মধ্যে হলুদ গুঁড়ো, স্বাদমতো নুন, পরিমাণ মতো চিনি এবং বেটে রাখা সর্ষে-পোস্তের মিশ্রণ দিয়ে ভালোভাবে মেখে নিতে হবে, যাতে সব উপকরণের সঙ্গে মশলা সুন্দরভাবে মিশে যায়।
এরপর ওই মিশ্রণের মধ্যে নারকেল কোড়া এবং সামান্য সর্ষের তেল দিয়ে আবারও ভালো করে মেখে নিতে হবে। তারপর পুরো মিশ্রণটি একটি টিফিন বক্স বা স্টিলের পাত্রে ঢেলে ঢাকনা বন্ধ করে রাখতে হবে। এবার গ্যাসে একটি কড়াই বসিয়ে তাতে পরিমাণ মতো জল গরম করতে হবে। জল গরম হয়ে এলে তার মধ্যে টিফিন বক্সটি বসিয়ে কড়াই ঢেকে দিন। কিছুক্ষণ পর ঢাকনা খুলে দেখে নিতে হবে কড়াইতে জল ঠিক আছে কি না। প্রয়োজন হলে আবার সামান্য জল দিয়ে দিতে হবে। এইভাবে ৫ থেকে ৭ মিনিট ভাপে রান্না করলেই তৈরি হয়ে যাবে সুস্বাদু কাঁচা আমের চিংড়ি ভাপা।
FAQs: কাঁচা আমের চিংড়ি ভাপা! একবার খেলেই বারবার বানাতে মন চাইবে
কাঁচা আমের চিংড়ি ভাপা বানাতে কোন চিংড়ি সবচেয়ে ভালো?
মাঝারি বা বড় সাইজের গলদা কিংবা বাগদা চিংড়ি ব্যবহার করলে এই রেসিপির স্বাদ সবচেয়ে ভালো হয়।
কাঁচা আমের বদলে কি পাকা আম ব্যবহার করা যাবে?
না, এই রেসিপিতে টক স্বাদের জন্য কাঁচা আম ব্যবহার করাই ভালো। পাকা আম দিলে স্বাদ বদলে যাবে।
চিংড়ি ভাপা কতক্ষণ ভাপে রাখতে হয়?
সাধারণত ৫ থেকে ৭ মিনিট ভাপে রাখলেই চিংড়ি ভালোভাবে সেদ্ধ হয়ে যায়।
সর্ষে-পোস্ত না দিলে কি রেসিপির স্বাদ ঠিক থাকবে?
সর্ষে ও পোস্ত এই রেসিপির মূল স্বাদ বাড়ায়। তাই সম্ভব হলে দুটোই ব্যবহার করা ভালো।
এই রেসিপি কি প্রেসার কুকারেও বানানো যায়?
হ্যাঁ, চাইলে প্রেসার কুকারে ভাপ দিয়ে খুব সহজেই কাঁচা আমের চিংড়ি ভাপা তৈরি করা যায়।
কাঁচা আমের চিংড়ি ভাপা কোন খাবারের সঙ্গে সবচেয়ে ভালো লাগে?
গরম সাদা ভাতের সঙ্গে এই পদ খেতে সবচেয়ে বেশি সুস্বাদু লাগে।
নারকেল কোড়া ব্যবহার না করলে হবে?
হবে, তবে নারকেল কোড়া দিলে রেসিপির স্বাদ আরও ক্রিমি ও মজাদার হয়।
এই রেসিপি কি কম তেলে বানানো যায়?
অবশ্যই। সামান্য সর্ষের তেল দিয়েই এই ভাপা রেসিপি সহজে তৈরি করা যায়।
