গত কয়েক মাস ধরে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনের একাধিক দাবি মেনে নিতে কেন্দ্রকে পদক্ষেপ করতে হয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। এবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন তাঁর বাবা। সুরতের আরটিআই কর্মী অমিত তিওয়ারি অভিযোগ তুলেছেন, একজন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারের বেতনে কীভাবে অভিজিৎ দীপকের বিদেশে পড়াশোনার খরচ বহন করা সম্ভব হয়েছে। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবিতে নির্বাচন কমিশন এবং জিএসটি কর্তৃপক্ষের কাছেও একাধিক আবেদন জমা পড়েছে।
অভিজিৎ দীপকের বাবার আর্থিক অবস্থা নিয়ে তদন্তের দাবি
সুরতের আরটিআই কর্মী অমিত তিওয়ারি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের বাবার আর্থিক উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, মহারাষ্ট্র শিল্পোন্নয়ন নিগম (MIDC)-এ জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার (JE) হিসেবে কর্মরত ভগবানরাও দীপকের মাসিক বেতন ছিল প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। সেই আয়ে কীভাবে তিনি ছেলেকে যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনে উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠিয়েছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিওয়ারি। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
নির্বাচন কমিশন, জিএসটি ও মহারাষ্ট্র সরকারের কাছে আবেদন
আরটিআই কর্মী অমিত তিওয়ারির দাবি, তিনি এই বিষয়টি নিয়ে তিনটি পৃথক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জমা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের কাছে সিজেপির নিবন্ধন সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় জিএসটি কর্তৃপক্ষের কাছেও কপিল সিব্বলের দেওয়া ১ কোটি টাকার অনুদানের উপর ১৮ শতাংশ জিএসটি প্রযোজ্য কি না, তা পরীক্ষা করার দাবি করা হয়েছে। এছাড়া মহারাষ্ট্র সরকারের কাছেও ভগবানরাও দীপকের আয় ও সম্পত্তির উৎস তদন্ত করে, অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পত্তির প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
সিজেপির নিবন্ধন ও ১ কোটি টাকার অনুদান নিয়ে বিতর্ক
আরটিআই কর্মী অমিত তিওয়ারির অভিযোগ, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এখনও নির্বাচন কমিশনের কাছে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়। তাঁর দাবি, নিবন্ধন না থাকলেও সংগঠনটি রাজনৈতিক দলের মতো কার্যকলাপ করছে এবং অনুদানও গ্রহণ করছে। তিওয়ারির বক্তব্য, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ২৯এ ধারার আলোকে নিবন্ধন ছাড়া এ ধরনের অনুদান গ্রহণের বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। উল্লেখ্য, গত সোমবার কংগ্রেস সাংসদ ও আইনজীবী কপিল সিব্বল ঘোষণা করেন, নিট আন্দোলনে গ্রেফতার হওয়া প্রতিবাদীদের আইনি সহায়তার জন্য তিনি ১ কোটি টাকা অনুদান দেবেন।
আরটিআই কর্মীর অভিযোগে বাড়ল রাজনৈতিক চাপ
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে একটি মামলা প্রত্যাহারের পর কেন্দ্র এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও বেড়েছে। সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা আবারও আন্দোলনের পথে নামবে। এদিকে আরটিআই কর্মী অমিত তিওয়ারির দাবি, নিট আন্দোলন পর্যন্ত বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকলেও পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর প্রয়াত মাকে নিয়ে করা কিছু মন্তব্য তিনি মেনে নিতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতেই তাঁর করা একাধিক অভিযোগ ও তদন্তের আবেদন নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
