অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) এর বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের হওয়ার পর এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর আগেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। সেই সমস্ত এফআইআর খারিজের দাবিতে তিনি হাইকোর্টের-এ আবেদন করেছেন। তা খারিজের আবেদন করেছেন তিনি কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)।
হাইকোর্টের আবেদন অভিষেক
প্রসঙ্গত, গতকাল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন সংখ্যালঘু উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী গিয়াসউদ্দিন মোল্লা, তৎকালীন ন্যাশনাল জোনাল মিতুন কুমার দে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের-এর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিম মগরাহাট বিধানসভায় প্রধান পদ থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদের টিকিট পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। গিয়াসউদ্দিন মোল্লার দাবি, এই গোটা ঘটনার মূল মাথা ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগেও নির্বাচনী প্রচারে এসে অমিত শাহ-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতাকে হুমকি ও হুঁশিয়ারি দেওয়ার অভিযোগে বিধাননগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম থানায় আরও একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল।
অভিযোগ উঠেছে, একাধিক জায়গায় উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সেই সংক্রান্ত বিভিন্ন লিঙ্কও অভিযোগের সঙ্গে জমা দেওয়া হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। পাশাপাশি, ৫ মে বাগুইআটি থানাতেও তাঁর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। পরে সেই সমস্ত অভিযোগ খারিজ করার দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিষেকের বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর
প্রথমত, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯০ ধারা অনুযায়ী জামিন যোগ্য, দাঙ্গার উদ্দেশ্যে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, ৩৫১/২ ধারা অনুযায়ী জামিন অযোগ্য, মৃত্যুর ভয় দেখানোর হুমকি দিয়ে মানুষের সম্মান এবং সম্প্রীতি নষ্ট করার অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হয়। তৃতীয়ত, ১৯৬ ধারা অনুযায়ী জামিন অযোগ্য, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি নষ্ট করার ঘৃণা ছড়ানোর জন্য তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। এছাড়া মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ও গুজব ছড়ানোর জন্য ৩৫৩(১)(সি) ধারা অনুযায়ী জামিন যোগ্য এফআইআর করা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
