ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় পরাজয়ের পর ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে। একদিকে দলের একাধিক সাংসদ ও বিধায়ক তৃণমূল ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ায় দলের অন্দরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগও দায়ের হয়েছে। এই আবহেই বালি, কয়লা ও গরু পাচার মামলার অন্যতম অভিযুক্তের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
নতুন সরকারকে তীব্র কটাক্ষ অভিষেকের!
মঙ্গলবার নিটের প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করার পাশাপাশি নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই পোস্টে তিনি রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারকে সরাসরি নিশানা করে দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতেই সরকার বেশি ব্যস্ত। পোস্টে অভিষেক লেখেন, “আমার মনে হয়, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকার প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে আয়ুষ্মান ভারত ও লক্ষীর ভান্ডারের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার থেকে আমার বিরুদ্ধে FIR দায়ের করতেই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।”
FIR বিতর্কে সরব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
এদিন রাজ্য সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের একাংশের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তোলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কিছু সংবাদমাধ্যম সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি থেকে সরে এসে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করছে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবেশকে আরও উসকে দিচ্ছে। একই পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, যাঁরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন, তাঁরাই নাকি বিনামূল্যে চিকিৎসা, কোভিড টেস্ট এবং রাস্তাঘাটের মতো জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলিরও বিরোধিতা করছেন।
পোস্টের শেষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তিনি কখনও ভাবেননি যে “ডবল ইঞ্জিন” সরকার উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে এতটা অনাগ্রহী হবে। একইসঙ্গে রাজ্যের নতুন সরকার ও সংবাদমাধ্যমের একাংশকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক চাপ, ভয় দেখানো বা আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে তাঁকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। মানুষের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করে যাবেন এবং জনস্বার্থের বিষয়েই ভবিষ্যতেও সরব থাকবেন বলে জানান।
