অগ্নিবীরদের জন্য ২০% সংরক্ষণ, স্কুল-কলেজে ফের NCC! বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের

-

তামান্না খান, কলকাতা: রাজ্যে এসেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর উপস্থিতিতে আজ গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সে ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির পাঁচটি প্রকল্পের শুভ সূচনা করা হয়। এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাংলায় ৩৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের বড় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি পূর্বতন সরকারের আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া এনসিসি পরিষেবা পুনরায় চালু করা এবং অগ্নিবীরদের জন্যও বড় সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, অগ্নিবীর ও সংশ্লিষ্টদের জন্য রাজ্যে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। ফলে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের এই উদ্যোগের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও যুবসমাজের জন্যও একাধিক নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এনসিসি ও অগ্নিবীর নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

আগের সরকারের আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া এনসিসি কর্মসূচি এবার রাজ্যের আরও বেশি সংখ্যক স্কুল ও কলেজে নতুন করে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এনসিসি চালুর বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কাছ থেকে ইতিবাচক আশ্বাসও মিলেছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য খুব শীঘ্রই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে। ফলে আগামী দিনে রাজ্যের আরও বেশি পড়ুয়া এনসিসির প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

- Advertisement -

এদিকে এনসিসির পাশাপাশি অগ্নিবীরদের জন্যও বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যে অগ্নিবীরদের জন্য ২০ শতাংশ সংরক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে এবং এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রাক্তন সেনাকর্মীদের নিয়েও রাজ্য সরকার বড় কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগামী দিনে অগ্নিবীরদের প্রথম ব্যাচ রাজ্যে এলে তাঁদেরও এই কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে অগ্নিবীরদের জন্য রাজ্যে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে তারাতলার সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের ঘটনাকে ঘিরেও উদ্বেগের বিষয়টি উঠে আসে। তিনি জানান, এই ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণকার্যে পৌঁছনোর জন্য ‘অর্জুন বাহিনী’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ২০০ জন প্রাক্তন সেনাকর্মীকে নিয়ে এই বিশেষ বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী তৈরি করা হবে। এর মধ্যে কলকাতায় ১০০ জন, দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি এলাকায় ৫০ জন এবং কাকদ্বীপে ৫০ জনকে রাখা হবে। আধুনিক সরঞ্জাম ও বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই বাহিনীর সদস্যরা বিপর্যয়ের সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকেই এই বাহিনীর কাজ শুরু হতে পারে।

Breaking News