দিল্লি থেকে সান ফ্রান্সিসকোর উদ্দেশে উড়েছিল একটি বিমান, আর সেই যাত্রা ছিল দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর—ঘড়ির কাঁটা গড়িয়ে একে একে প্রায় আট ঘণ্টা পার হয়ে গিয়েছিল। যাত্রীরা যখন ভাবছিলেন এবার হয়তো আটলান্টিক পেরোনোর পালা, ঠিক তখনই ঘটে যায় অবাক করা ঘটনা। মাঝ আকাশ থেকেই হঠাৎ ইউ-টার্ন নেয় বিমানটি এবং ফিরে আসে আবার সেই জায়গাতেই, যেখান থেকে যাত্রা শুরু হয়েছিল—দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই।
২৩০ জন যাত্রী নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর বিমানের এই অদ্ভুত ‘প্রত্যাবর্তন’ ঘিরে বুধবার (২৭ মে) ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রশ্ন উঠতে থাকে, কেন আট ঘণ্টা আকাশে উড়ে থাকার পরও শেষ পর্যন্ত বিমানটিকে ফিরে আসতে হলো। পরে উড়ান সংস্থার তরফে জানানো হয়, বিমানে একটি জটিল ‘প্রযুক্তিগত বিভ্রাট’ বা যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়েছিল, যদিও ঠিক কী ধরনের সমস্যা হয়েছিল তা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে মাঝ আকাশে সামান্য যান্ত্রিক সমস্যা ধরা পড়লেও সমুদ্রের উপর দিয়ে ঝুঁকি না নিয়ে নিরাপদে ফিরে আসাকেই সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরা হয়।
কাজেই সুরক্ষার স্বার্থেই পাইলট বিমানটিকে ফের ভারতের প্রধান বিমানবন্দরে ফিরিয়ে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং ২৩০ জন যাত্রীকে বিকল্প বিমানে সান ফ্রান্সিসকো পাঠানোর পাশাপাশি অপেক্ষার সময়টুকু হোটেলে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তবে এই ঘটনার পর যাত্রীদের একাংশের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ গত ২১ মে বেঙ্গালুরু থেকে দিল্লিগামী আরেকটি এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইটেও অবতরণের সময় ইঞ্জিনে আগুন লাগার ঘটনা সামনে এসেছিল। একই সংস্থা Air India-এর এক সপ্তাহের মধ্যে দুটি আলাদা উড়ানে এমন বিভ্রাট হওয়ায় অনেকেই রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলছেন। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এটি বিমানের নিয়মিত মেইনটেন্যান্স বা টেকনিক্যাল চেকের ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে, যদিও সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যাত্রীসুরক্ষাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। অন্যদিকে ভারতের অসামরিক উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা Directorate General of Civil Aviation (DGCA) এখনো পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি বা কোনো পদক্ষেপ ঘোষণা করেনি।
