দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় এবার আরও কড়া অবস্থান নিতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান রুখতে নতুন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা জানিয়েছেন অমিত শাহ (Amit Shah)। তাঁর কথায়, একটি বিশেষ ‘চতুষ্কোণ নিরাপত্তা গ্রিড’-এর মাধ্যমে বিএসএফ, সেনাবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন এবং সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষ একসঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে, যাতে সীমান্তকে পুরোপুরি অবৈধ অনুপ্রবেশমুক্ত করা যায় এবং নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হয়।
কী এই চতুষ্কোণ নিরাপত্তা গ্রিড?
রাজস্থানের বিকানেরের কাছে ভারত-পাক সীমান্তের সাঞ্চু পোস্টে বিএসএফ জওয়ানদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ (Amit Shah) এই নতুন নিরাপত্তা কৌশলের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সীমান্তকে সম্পূর্ণ ‘জিরো ইনফিল্ট্রেশন’ বা অনুপ্রবেশমুক্ত করতে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তাঁর মতে, সীমান্ত রক্ষা শুধু কোনও এক বাহিনীর কাজ নয়, বরং এটি সম্মিলিত দায়িত্ব। এই ব্যবস্থায় প্রথম সারিতে দিনরাত পাহারায় থাকবে বিএসএফ, যারা অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখবে। তাদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সেনাবাহিনী বড়সড় সামরিক বা কৌশলগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন সীমান্ত এলাকার পঞ্চায়েত ও পৌর সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখবে, আর সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দাদেরও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশীদার করা হবে যাতে সন্দেহজনক গতিবিধি দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে দেশের সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামবাসীদের অনুপ্রবেশ আর চোরাচালানের ক্ষতিকর দিকগুলি সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, বিএসএফের কার্যক্ষেত্র সীমান্ত থেকে ১৫ কিলোমিটারের পরিধি বাড়িয়ে ৫০ কিলোমিটার করার পেছনে উদ্দেশ্য ছিল গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয় আরও পাকাপোক্ত করা। এমনকি সীমানার কাছাকাছি যে কোনও সন্দেহজনক নির্মাণ রুখতে বিএসএফকে বিশেষ নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতি দেখা দিলেই স্থানীয় জেলা প্রশাসনকে সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
