বুধবার ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র আবেদনপত্র প্রকাশের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশিত ১২ পাতার এই ফর্ম ঘিরে বিরোধীদের একাংশ সরব হয়েছে। আধার, ভোটার কার্ড, প্যান, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যের পাশাপাশি জমি-বাড়ির মালিকানা ও বার্ষিক আয়ের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া নিয়ে উঠছে প্রশ্ন (Annapurna Yojana)। সমালোচকদের দাবি, সাধারণ মানুষের জন্য আবেদন প্রক্রিয়াকে অকারণে জটিল করে তোলা হয়েছে। অনেকের অভিযোগ, এত বেশি নথি ও তথ্য চাওয়ার মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে সুবিধাপ্রাপকদের সংখ্যা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্নপূর্ণা যোজনার ১২ পাতার ফর্ম ঘিরে শুরু বিতর্ক (Annapurna Yojana)
অন্নপূর্ণা যোজনার ১২ পাতার আবেদনপত্র ঘিরে বিরোধীদের সমালোচনার মাঝেই পাল্টা অবস্থান স্পষ্ট করেছে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার সকালে ইকোপার্কে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বিষয়ে বক্তব্য রাখেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি জানান, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রকল্প হওয়ায় প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতে এবং সঠিকভাবে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই আবেদনপত্রে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতেই এই নিয়ম রাখা হয়েছে।
‘যাকে-তাকে টাকা নয়’ — কড়া অবস্থান দিলীপ ঘোষের
মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ-এর দাবি, শুরুতেই আবেদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ করে দিলে প্রকল্পের অপব্যবহারের আশঙ্কা থেকে যায়। একই পরিবারের একাধিক সদস্য যাতে একসঙ্গে সুবিধা না পান বা ভুয়ো পরিচয়ে বাইরের কেউ যাতে এই প্রকল্পের টাকা না নিতে পারেন, সেই কারণেই আপাতত আবেদন প্রক্রিয়ায় কিছু কড়াকড়ি রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আবেদনপত্র ও পুরো প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সুবিধাজনক করে তোলা হবে।
এছাড়াও এ দিন দিলীপ ঘোষ জিএসটির উদাহরণ টেনে আরও বলেন, “জিএসটি চালু হওয়ার সময় কেউ বুঝতে পারছিল না। আজ সবাই খুশি। সময় লেগেছে। অন্নপূর্ণা যোজনাতেও তেমনই হবে।”
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা ভান্ডার ফর্ম PDF ডাউনলোড করুন, শুরু আবেদন প্রক্রিয়া
১৫ থেকে ১৭ জুন হবে ‘জনকল্যাণ শিবির’
মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ আরও জানিয়েছেন, আবেদনকারীদের সুবিধার জন্য সরকার ইতিমধ্যেই বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুন রাজ্যজুড়ে ‘জনকল্যাণ শিবির’-এর আয়োজন করা হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ সরাসরি আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন। পাশাপাশি পঞ্চায়েত ও পৌরসভার কর্মীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম ফিলআপ ও প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করবেন বলে জানানো হয়েছে।
