অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা না পাওয়ায় রাজ্যের বহু মহিলার আবেদন বাতিল হয়েছে। যদিও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সেই আবেদনগুলি আবার নতুন করে যাচাই করার কাজ শুরু হয়েছে। আর এই ভেরিফিকেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আশা কর্মীদের উপর। তবে এই অতিরিক্ত কাজের দায়িত্ব নিতে নারাজ তাঁরা। একাধিক দাবি তুলে মঙ্গলবার আরামবাগের এসডিও ও বিডিও অফিসে ডেপুটেশন জমা দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের অঙ্গনওয়াড়ি ওয়ার্কার এবং হেলপার্স ইউনিয়ন। তাঁদের অভিযোগ, নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি এই অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলানো অত্যন্ত কঠিন, তাই সরকার যেন বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ভেরিফিকেশন নিয়ে আপত্তি আশা কর্মীদের
রাজ্যের আশা কর্মীদের দাবি, যে সমস্ত মহিলারা টাকা পাচ্ছেন না অর্থাৎ অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩০০০ টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকছে না তাদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে আশা কর্মীদের। তাদেরকে দায়ী করা হচ্ছে যে তাদের জন্যই নাকি অন্নপূর্ণার টাকা ঢোকেনি। সেই কারণেই তারা এবার ডেপুটেশন জমা দিতে আসলেন এসডিও এবং বিডিও অফিসে। এদিন আরামবাগ এসডিপিও অফিস থেকে পদযাত্রা করে এসডিও এবং বিডিও অফিসে পৌঁছন কর্মী এবং সহায়িকারা। সেখানেই তারা স্মারকলিপি জমা দেন।
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের আরও অভিযোগ, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মের ভেরিফিকেশনের সময় কোনও সরকারি আধিকারিক তাদের সঙ্গে উপস্থিত থাকছেন না। যা করার তাদেরকেই করতে হচ্ছে। সেই কারণে টাকা না ঢুকলে তাদেরকেই দায়বদ্ধ করা হচ্ছে। এক মহিলা স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এখন আমাদের দিয়েই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ভেরিফিকেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করানো হচ্ছে। আমরা এই কাজ করব না সেটা বলছি না। কিন্তু আমরা চাই আমাদের সঙ্গে কোনও সরকারি আধিকারিক থাকুক। তাহলে আমাদের উপর দায় চাপানোর প্রবণতা কমবে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ভেরিফিকেশন নিয়েই শুধু নয়, এদিন আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেছেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকারা। মা ও শিশুদের পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামোর উন্নয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা-সহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের দাবিতে তাঁরা ডেপুটেশন জমা দেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব বিষয় প্রশাসনের নজরে আনা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ভেরিফিকেশনের কাজের সঙ্গে আয়ুষ্মান ভারতের ফর্ম জমা দেওয়ার অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
