তামান্না খান, কলকাতাঃ সামনেই বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। তার আগে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকা মাসিক কিস্তির অপেক্ষায় রয়েছেন বহু মহিলা। সেপ্টেম্বরের কিস্তির টাকা ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। ইতিমধ্যেই অনেক উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমাও পড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ৫৮ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর কাজ শুরু করা হয়েছিল। তবে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হলেও সবার অ্যাকাউন্টে একই সময়ে টাকা জমা পড়ে না। তাই এখনও যদি আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা না এসে থাকে, তাহলে চিন্তার কিছু নেই। প্রথমেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করে দেখে নেওয়া প্রয়োজন।
এখনই চেক করে নিন এই পাঁচটি জিনিস
আবেদনের স্ট্যাটাস: প্রথমেই দেখে নিন অন্নপূর্ণা যোজনায় আপনার আবেদনটি সত্যিই ‘Approved’ রয়েছে কি না। আবেদন অনুমোদিত হওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়বে, এমনটা নয়। অনুমোদনের পর DBT-এর মাধ্যমে টাকা পাঠানোর আরও একটি প্রক্রিয়া থাকে। তাই ‘Approved’ দেখাচ্ছে, অথচ এখনও টাকা ঢোকেনি—এমন পরিস্থিতিতে সঙ্গে সঙ্গে আবেদন বাতিল হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অন্নপূর্ণা যোজনার সরকারি পোর্টালে থাকা ‘Track Applicant Status’ অপশনে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে আবেদনের বর্তমান অবস্থা ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে নিতে পারেন।
আধার ও ব্যাঙ্কের তথ্য: দ্বিতীয় ধাপে আধার কার্ড এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নিন। আধারে থাকা নাম বা অন্যান্য পরিচয় সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে ব্যাঙ্কের নথিতে দেওয়া তথ্যের কোনও বড় অমিল রয়েছে কি না দেখে নিন। পাশাপাশি আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আধার সিডিং করা রয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া জরুরি। কারণ DBT-এর মাধ্যমে সরকারি সুবিধার টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে আধার-সংক্রান্ত তথ্য সঠিক থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কোনও সমস্যা ধরা পড়লে ব্যাঙ্কে যোগাযোগ করে আধার লিঙ্ক বা প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধনের ব্যবস্থা করুন।
DBT সংক্রান্ত তথ্য: তৃতীয় ধাপে আপনার DBT সংক্রান্ত তথ্য পরীক্ষা করে নিন। শুধু আধার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকলেই সব সমস্যা মিটে যাবে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কোন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আপনার আধার যুক্ত রয়েছে এবং সরকারি DBT-এর টাকা কোন অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার কথা, তা নিশ্চিত করুন। বিশেষ করে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকলে বিষয়টি আরও ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। আগের কিস্তির টাকা যে অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছিল, সেটিও একবার মিলিয়ে দেখে নিতে পারেন।
আবেদনের তথ্য: চতুর্থ ধাপে আবেদন করার সময় দেওয়া সমস্ত তথ্য ঠিক রয়েছে কি না মিলিয়ে নিন। নাম, আধার নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য বা অন্য কোনও প্রয়োজনীয় তথ্যে ভুল কিংবা গরমিল থাকলে DBT-এর মাধ্যমে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাই আবেদনে দেওয়া তথ্যগুলি একবার ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
আবেদনের বর্তমান অবস্থা: পঞ্চম ধাপে শুধু ব্যাঙ্কের SMS-এর অপেক্ষায় না থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার সরকারি পোর্টালে গিয়ে আবেদনের বর্তমান স্ট্যাটাস দেখে নিন। সেখানে আবেদন ‘Approved’ দেখালে সঙ্গে সঙ্গে চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। কিছুটা সময় দিয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও পরীক্ষা করুন। রাজ্য সরকারের সরকারি পোর্টালেই আবেদন ট্র্যাক করার ব্যবস্থা রয়েছে, তাই সেখান থেকেই নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করা ভালো।
এর পরেও টাকা না এলে প্রথমে ব্যাঙ্কে গিয়ে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রয়েছে কি না, আধার সিডিং এবং DBT সংক্রান্ত তথ্য ঠিক আছে কি না জেনে নিন। সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্ট BDO বা SDO অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। কলকাতা পুরসভা এলাকার বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড অফিসেও যোগাযোগ করতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন সংক্রান্ত কাজ BDO, SDO এবং কলকাতা পুরসভা এলাকার ওয়ার্ড অফিসের মাধ্যমে করা যায়। তাই পুজোর আগে ৩,০০০ টাকা না ঢুকলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে এই পাঁচটি বিষয় একবার ভালো করে যাচাই করে নিন।
