অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে ফের বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, কবে পাবেন ৩০০০ টাকা?

-

তামান্না খান, কলকাতাঃ অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে ফের বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এখনও ভাতা না পাওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বহু মহিলা। কোথাও পৌরসভা, আবার কোথাও বিডিও অফিস ঘেরাও করে নিজেদের সমস্যার কথা জানাচ্ছেন তাঁরা। অভিযোগ, যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও অনেক মহিলার নাম এখনও প্রকল্পের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তবে ইতিমধ্যেই আগস্ট মাসে যাচাই-বাছাই করে যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা পাঠানো হয়েছে। যাঁদের এখনও টাকা ঢোকেনি, তাঁদেরও দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

শহরের এক প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের কনক্লেভ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৪৫ লক্ষ ৬৪ হাজার ৪৭২ জন মহিলাকে এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রয়োজন হলে আরও মহিলাকে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আনা হবে, তবে শুধুমাত্র প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তারাই এই সুবিধা পাবেন। একইসঙ্গে আগের সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৩ লক্ষ পুরুষও সেই প্রকল্পের সুবিধা পেতেন এবং এসআইআর-এ নাম বাদ গিয়েছে এমন কিছু অ-ভারতীয়ও সুবিধা পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও দাবি করেন, পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় একজন পুরুষ বিধবা ভাতা পেতেন, যিনি আবার তৃণমূলের নেতা ছিলেন।

- Advertisement -
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি? এই তথ্য জমা দিলেই মিলতে পারে ৩ হাজার টাকা

এমনকি সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, “আরও যদি ২০-৩০ লক্ষ লাগে, আমি সেটা দেওয়ার ব্যবস্থা করব। ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মা-বোন-দিদিকে টাকা দিয়েছি। জুনে ২৮ লক্ষ। কারণ তাড়াতাড়ি তালিকা ঠিক করা যায়নি। জুলাইতে দিয়েছি ১ কোটি ১৯ লক্ষ। এ মাসে ১ কোটি ৪৫। এটাও কথা দিয়ে গেলাম, যাঁরা এই সামান্য অল্প ভাতার উপরে নির্ভর করেন, বা প্রকৃত পাওয়ার হকদার, তাহলে আরও যদি ২০-৩০ লক্ষ লাগে, দেওয়ার ব্যবস্থা করব।”

উল্লেখ্য, ৩১ জুলাইয়ের পর অন্নপূর্ণা যোজনার পোর্টাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল রাজ্য সরকারের তরফে। এরপর আগস্ট মাসে উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই করে ১৭ থেকে ২০ আগস্টের মধ্যে টাকা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু ১৯ আগস্ট পোর্টাল ফের খোলার পর দেখা যায়, বহু মহিলার আবেদন বাতিল হয়ে গিয়েছে। এমনকি যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও অনেকেই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর বিক্ষোভ শুরু হলে রাজ্য সরকারের তরফে ফের তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। পুরসভা ও বিডিও অফিসের মাধ্যমে উপভোক্তাদের তথ্য সংশোধন করে যোগ্য মহিলাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর কাজ শুরু হয়। ভেরিফিকেশনের পর ৩১ আগস্ট পর্যন্ত যোগ্য মহিলাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হতে পারে বলেও জানা যাচ্ছে।

Breaking News