অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা এখনও অনেক উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়নি। আবেদনপত্রের স্ট্যাটাসে “Application Rejected” বা “Under Enquiry” দেখিয়ে বহু আবেদনকারী উদ্বেগে রয়েছেন। তবে তাঁদের জন্য আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। জানানো হয়েছে, যেসব আবেদন বাতিল হয়েছে বা এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে, সেগুলি পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে। যাচাইয়ের পর যাঁরা প্রকৃতপক্ষে যোগ্য বলে প্রমাণিত হবেন, তাঁদের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হবে না।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, যেসব মহিলার অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন বাতিল হয়েছে, তাঁদের বাড়িতে গিয়ে আধিকারিকরা সরাসরি তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করবেন। আবেদনপত্রে দেওয়া ব্যক্তিগত তথ্য, পরিচয়পত্র, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ এবং অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখে আবেদন বাতিলের কারণ যাচাই করা হবে। এই যাচাইয়ের পর যদি আবেদনকারী প্রকৃতপক্ষে যোগ্য বলে প্রমাণিত হন, তাহলে তাঁকে প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনও যোগ্য আবেদনকারীকে সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হবে না। এই ঘোষণার পর আবেদন বাতিল হওয়া বহু মহিলার মধ্যে আবারও আশার সঞ্চার হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত আবেদন যাচাইয়ের কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। শুধু “Application Rejected” দেখানো আবেদনই নয়, যেসব আবেদন এখনও “Under Enquiry” অবস্থায় রয়েছে, সেগুলিরও দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অফলাইনে জমা পড়া আবেদনগুলি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিজিটাল পোর্টালে আপলোড করার কাজও শেষ করতে বলা হয়েছে। প্রশাসন আবেদনকারীদের অযথা উদ্বিগ্ন না হয়ে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছে। কারণ বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য ও নথি যাচাইয়ের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে বর্তমানে আবেদন বাতিল দেখালেও, পুনরায় যাচাইয়ের পর যোগ্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হতে পারে।
যাচাইয়ের সময় আবেদনকারীদের আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র, ব্যাঙ্ক পাসবই, মোবাইল নম্বর-সহ আবেদনপত্রে ব্যবহৃত সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। একই সঙ্গে প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, যাঁরা আয়করদাতা, সরকারি চাকরিজীবী অথবা নিয়মিত সরকারি পেনশনভোগী, তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। তাই যাচাইয়ের সময় এই ধরনের তথ্য মিললে তাঁদের আবেদন বাতিল করা হবে।
যদিও অভিযোগ উঠেছে, নামের বানানে সামান্য ভুল, KYC-সংক্রান্ত ত্রুটি বা নথির অসঙ্গতির কারণে অনেক যোগ্য আবেদনকারীর ফর্মও “Application Rejected” বা “Under Enquiry” অবস্থায় চলে যাচ্ছে। সেই কারণেই প্রশাসন পুনরায় যাচাই প্রক্রিয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে প্রকৃত যোগ্য কেউ সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন। এখন দেখার বিষয়, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য ও নথি যাচাইয়ের কাজ শেষ হওয়ার পর অন্নপূর্ণা যোজনার বাকি যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কত দ্রুত আর্থিক সহায়তার টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়।
