মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ১ আগস্ট থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) তৃতীয় কিস্তির টাকা উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই কারণেই মাসের প্রথম দিন থেকেই বহু মহিলা নিজেদের ব্যাংক ব্যালেন্স পরীক্ষা করতে শুরু করেন। তবে ২ আগস্ট পেরিয়ে গেলেও অনেকের অভিযোগ, এখনও তাঁদের অ্যাকাউন্টে তৃতীয় কিস্তির টাকা জমা পড়েনি। শুধু তাই নয়, যাঁদের প্রথম বা দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ পাওয়ার কথা ছিল, তাঁদের অনেকেও এখনও কোনও টাকা পাননি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এই উপভোক্তারা কি আদৌ অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন, নাকি অন্য কোনও কারণে তাঁদের পেমেন্ট আটকে রয়েছে?
১ আগস্ট যাদের টাকা না ঢুকলে কী হবে?
প্রথমেই জানিয়ে রাখা ভালো, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে বলেছেন যে, যাঁরা প্রথম বা দ্বিতীয় কিস্তির টাকা এখনও পাননি, তাঁদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে সমস্ত যোগ্য উপভোক্তার তথ্য যাচাই করে ধাপে ধাপে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তাই ১ আগস্ট থেকে টাকা পাঠানো শুরু হলেও, তার অর্থ এই নয় যে প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে একই দিন টাকা পৌঁছে যাবে। পশ্চিমবঙ্গে প্রায় দেড় কোটি উপভোক্তা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের অ্যাকাউন্টে একদিনে টাকা পাঠানো বাস্তবে সম্ভব নয়। তাই পেমেন্ট ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে এবং যোগ্য উপভোক্তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই টাকা পৌঁছে যাবে।
সরকারি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, যেসব মহিলা ইতিমধ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনার প্রথম বা দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পেয়েছেন, তাঁদের তথ্যও ফের যাচাই করা হচ্ছে। এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় যদি কোনও তথ্যের অসঙ্গতি বা অযোগ্যতার প্রমাণ মেলে, তাহলে সংশ্লিষ্ট উপভোক্তার নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে তাঁরা তৃতীয় কিস্তির টাকা নাও পেতে পারেন। তবে যাঁদের সমস্ত নথি সঠিক রয়েছে এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ডিবিটি (DBT) সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছে, তাঁদের উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে ধাপে ধাপে টাকা পাঠানো হবে। ফলে কারও অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছাতে এক সপ্তাহ বা এমনকি দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
তবে উল্লেখ করার বিষয়, যদি আপনার মনে হয়ে থাকে যে আপনি যোগ্য হওয়া সত্বেও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা পাননি, তাহলে সরাসরি লিখিত অভিযোগ জানাতে পারেন স্থানীয় বিডিও অফিস কিংবা পৌরসভায়। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে হেল্পলাইন নম্বর জারি করা হয়েছে। ১৮০০-৩৪৫-৫৫০৫ নম্বরে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন। কিন্তু হ্যাঁ, অবশ্যই নিশ্চিত থাকতে হবে যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ডিবিটি লিংক সক্রিয় রয়েছে। নাহলে এই প্রকল্পের সুবিধা মিলবে না।
