সাদিকুল খান, কলকাতাঃ অনুব্রত মণ্ডল অফিসে থাকা অবস্থাতেই তাঁর নাকের ডগায় দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল। সূত্রের খবর, আচমকাই একদল দুষ্কৃতী সিউড়িতে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে এবং ভিতরে তুমুল ভাঙচুর শুরু করে। কাঁচের গেট থেকে শুরু করে আসবাব, এসি, টেবিল-চেয়ার, ফ্যান-সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। তবে হামলাকারীরা কোন দলের সঙ্গে যুক্ত, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
হেনস্থা ও ভাঙচুর কয়েকজন মুখ ঢাকা যুবকের। কারা তারা?
দীর্ঘ প্রায় চার মাস পর আজ দলীয় কার্যালয়ে এসেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। সেখানে কয়েকজন কর্মী-সমর্থকের সঙ্গে বসে কথা বলছিলেন তিনি। সেই সময়ই আচমকা অফিসে ঢুকে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। কাচের গেট থেকে শুরু করে অফিসের আসবাবপত্র, এসি, টেবিল, চেয়ার ও ফ্যান—একের পর এক জিনিস ভাঙচুর করতে থাকে তারা। যদিও হামলাকারীরা কোন দলের সঙ্গে যুক্ত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অনুব্রতর চোখের সামনেই মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে চুরমার হয়ে যায় কাচের টেবিল-সহ অফিসের বিভিন্ন সামগ্রী। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে হামলাকারীদের আটক করে নিয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম সিউড়ির দলীয় কার্যালয়ে গিয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। বিকেল পৌনে ৫টা নাগাদ সিউড়িতে পৌঁছে অফিসে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। অনুব্রত কার্যালয়ে রয়েছেন, এই খবর পাওয়ার প্রায় ১৫-২০ মিনিট পর মুখে কাপড় বাঁধা তিন যুবক লাঠি হাতে পার্টি অফিসে ঢুকে পড়ে বলে জানা যায়। প্রথমে নিচের তলায় ঢুকে তারা অনুব্রতর খোঁজ করে। আচমকা তিন যুবককে লাঠি হাতে ঢুকতে দেখে অফিসে থাকা কর্মীরাও চমকে যান। তাঁদের জানানো হয়, অনুব্রত মণ্ডল উপরে রয়েছেন। এরপর সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠার সময়ই ভাঙচুর শুরু করে তারা। একের পর এক জিনিসপত্র ভাঙতে ভাঙতে উপরে পৌঁছে সামনের ঘরে অনুব্রতকে বসে থাকতে দেখে হামলাকারীরা। ঘরে ঢুকেই সামনে থাকা চেয়ার ভাঙতে শুরু করে তারা। আচমকা এমন ঘটনায় হতবাক হয়ে যান অনুব্রত। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁকে বারবার ক্ষমা চাইতে দেখা যায়।
