আবাস যোজনায় এবার ঘর তৈরি করা আরও সহজ হতে চলেছে। পাশাপাশি, চড়া দামে বালি বিক্রি বন্ধ করতেও বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। পূর্বতন সরকারের আমল থেকেই পূর্ব বর্ধমানে চড়া দামে বালি বিক্রি এবং কালোবাজারির অভিযোগ উঠছিল। সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ কমানো এবং বালির কালোবাজারি বন্ধ করার লক্ষ্যেই গতকাল, সোমবার জেলাশাসকের দফতরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করা হয়। সেই বৈঠকেই আবাস যোজনার বাড়ি তৈরির কাজে ব্যবহৃত বালির দাম নির্দিষ্ট করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
১০০ সিএফটি বালির দাম মাত্র ১২০০ টাকা
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্ষার মরশুমে সাধারণত বালির দাম অনেকটাই বেড়ে যায়। কোথাও কোথাও ১০ হাজার টাকারও বেশি দামে বালি বিক্রি করার অভিযোগও উঠেছে। এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়েই এবার নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল, সোমবার, জেলাশাসকের দফতরে জেলার বিভিন্ন বিধানসভা এলাকার বিধায়ক এবং বালি ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করা হয়। বৈঠকে জেলার বর্তমান বালির বাজার, দাম এবং বিক্রির পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এরপর সাধারণ মানুষ, আবাস যোজনার উপভোক্তা-সহ বিভিন্ন শ্রেণির ক্রেতাদের জন্য বালির সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য নির্দিষ্ট করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বালির দাম বেঁধে দিল প্রশাসন
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যের আবাস যোজনার আওতায় যাঁরা বাড়ি নির্মাণ করছেন, তাঁদের জন্য প্রতি ১০০ সিএফটি বালির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১,২০০ টাকা। এই দামের মধ্যেই স্টক পয়েন্ট থেকে বালি লোডিংয়ের খরচও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অন্যদিকে, আবাস যোজনার আওতায় না থাকা ব্যক্তিগত বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রতি ১০০ সিএফটি বালির সর্বোচ্চ দাম রাখা হয়েছে ৫,২৫০ টাকা। সরকারি নির্মাণ প্রকল্পগুলিও এই নির্ধারিত দামের আওতায় থাকবে। প্রশাসনের আশা, বালির দাম নির্দিষ্ট করে দেওয়ার ফলে বাজারে ইচ্ছেমতো বেশি দামে বালি বিক্রির প্রবণতা কমবে এবং সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাবেন।
প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বেশ খুশি সাধারণ জনগণ। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র জানান, “বর্ষার সময়ে নিয়ম মেনেই জেলার অধিকাংশ বালিঘাট বন্ধ থাকে। পরিবেশগত কারণের পাশাপাশি এই সময়ে নদী থেকে পাওয়া বালিতে কাদা মিশে যাওয়ায় নির্মাণকাজে তা ব্যবহার করা হয় না। ফলে ওই সময় স্বাভাবিকভাবেই বাজারে সরবরাহ কমে যায়। জোগান কম থাকায় চাহিদা যেহেতু বাড়ে তাই ওই সময় অনেকেই ইচ্ছেমত দাম নেয়। তবে এবার সেই কালোবাজারি হবে না।”
