সাদিকুল খান, কলকাতাঃ উত্তর ২৪ পরগণা: কখন, কীভাবে কার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যাবে, তা কেউই বলতে পারে না। অনেক আশা আর চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে জীবনে বড় কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা করতেন পেশায় দিনমজুর বাগদার প্রভাত পাল। সেই আশা থেকেই তিনি একটি লটারির টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু কে জানত, সেই লটারির টিকিটই তাঁর জীবন বদলে দেবে! লটারিতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে এক কোটি টাকা জিতে নিয়েছেন প্রভাত পাল। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এবার যেন সত্যি হওয়ার পথে।
দিনমজুরের কপাল খুললো লটারিটে ১ কোটি জিতে
বাগদার খর্দ কুলবেড়িয়া এলাকার বাসিন্দা প্রভাত পাল লটারির টিকিট কেটে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে গেলেন। তিনি জানান, আর পাঁচটা দিনের মতোই ভাগ্য পরীক্ষা করতে হেলঞ্চা থেকে একটি লটারির টিকিট কিনেছিলেন। কিন্তু সেই টিকিট যে তাঁর জীবনটাই বদলে দেবে, তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ লটারির ফল প্রকাশের পর টিকিটের নম্বর মিলিয়ে দেখেন, তিনিই ১ কোটি টাকার প্রথম পুরস্কারের দাবিদার। এই খবর জানতে পেরে প্রভাত ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা যেমন আনন্দিত হন, তেমনই কিছুটা আতঙ্কিতও হয়ে পড়েন। তাই লটারির টিকিটটি সবসময় নিজের কাছেই নিরাপদে রেখেছেন তিনি।
প্রভাত পালেরও দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল নিজের একটি বাড়ি তৈরি করার। কিন্তু দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালানো মানুষের কাছে সেই স্বপ্ন পূরণ করা সহজ ছিল না। এবার লটারিতে পাওয়া টাকা দিয়ে এক টুকরো জমি কিনে সেখানে একটি ছোট বাড়ি তৈরি করতে চান প্রভাত। নিজের একটি বাড়িতে পরিবারকে নিয়ে শান্তিতে বাকি জীবনটা কাটানোই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। সারাজীবন দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালালেও পরিবারের জন্য তেমন কিছু করতে পারেননি তিনি। তাই এই অর্থ দিয়ে নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ কিছুটা গুছিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন প্রভাত।
পরিবারের সদস্যরা প্রায়ই তাঁকে লটারির টিকিট কিনতে নিষেধ করতেন। তবে তাতে কখনও আশাহত হননি প্রভাত। তাঁর মনে বিশ্বাস ছিল, কোনও দিন যদি লটারি জেতেন, তাহলে সেই টাকা দিয়ে পরিবারের জন্য কিছু করতে পারবেন। অবশেষে সেই স্বপ্নই সত্যি হয়েছে। এক কোটি টাকার প্রথম পুরস্কার জিতে স্বাভাবিকভাবেই ভীষণ আনন্দিত প্রভাত পাল। তাঁর স্ত্রীও এই জয়ে অত্যন্ত খুশি। এক টুকরো কাগজে লেখা কয়েকটি সংখ্যা যেন মুহূর্তেই দিনমজুরের পরিবারের দীর্ঘদিনের কষ্টের ছবি বদলে দিয়েছে।
