ভারতের প্রাক্তন ফুটবল অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়ার মতে, বিশ্বকাপে পারফরম্যান্সের বিচারে এখনও দিয়েগো মারাদোনা লিওনেল মেসির থেকে এক ধাপ এগিয়ে। তবে তিনি বলেন, যদি আর্জেন্টিনা রবিবার বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে যায়, তাহলে মেসি ১৯৮৬ সালে মারাদোনার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের ঐতিহাসিক কীর্তির সমকক্ষ হয়ে উঠবেন। বাইচুংয়ের মতে, বিশ্বকাপ জয় মেসির ফুটবল জীবনে একটি বড় মাইলফলক হবে এবং সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের তালিকায় তাঁর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
টানা দ্বিতীয়বার ফাইনাল খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা
আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন। অধিনায়ক লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল। অন্যদিকে, দিয়েগো মারাদোনা ১৯৮৬ সালে দলকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছিলেন এবং সেই আসরে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত হয়। যদিও ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে মারাদোনার নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা পশ্চিম জার্মানির কাছে হেরে রানার্স-আপ হয়েছিল।
বাইচুং ভুটিয়ার মতে, ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে দিয়েগো মারাদোনা প্রায় একাই আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন। সেই আসরে তাঁর নেতৃত্ব, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা ছিল অসাধারণ। তাই বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের বিচারে এখনও মারাদোনাকে লিওনেল মেসির চেয়ে এগিয়ে রাখেন বাইচুং। তবে তাঁর মতে, আর্জেন্টিনা যদি আবারও বিশ্বকাপ জেতে, তাহলে মেসিও মারাদোনার সেই কিংবদন্তি কীর্তির সমতুল্য মর্যাদা অর্জন করবেন।
মারাদোনাকে মেসির থেকে এগিয়ে রাখলেন বাইচুং-
পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাইচুং ভুটিয়া বলেন, “মারাদোনা আর মেসির তুলনা করা খুবই কঠিন। তবে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে মারাদোনা প্রায় একাই আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন পারফরম্যান্স খুব কম ফুটবলারই দেখাতে পেরেছেন।” প্রাক্তন ভারতীয় এই স্ট্রাইকারের মতে, লিওনেল মেসি ইতিমধ্যেই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং মারাদোনার উচ্চতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। তবে তাঁর বিশ্বাস, যদি মেসি আবারও আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারেন, তাহলে তিনি নিঃসন্দেহে দিয়েগো মারাদোনার সমকক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
বাইচুং ভুটিয়া আরও বলেন, “মেসি নিঃসন্দেহে একজন অসাধারণ ফুটবলার। তবে তাঁর পাশে সবসময়ই একটি শক্তিশালী দল রয়েছে, যারা তাঁকে দারুণভাবে সমর্থন করে। অন্যদিকে, মারাদোনাকে অনেক সময় একাই দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হতো। গোল করার সুযোগ তৈরি করা থেকে শুরু করে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়া—সব ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা ছিল অসাধারণ।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, মারাদোনা চারটি বিশ্বকাপে (১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০ ও ১৯৯৪) অংশ নিয়ে ২১ ম্যাচে ৮টি গোল করেছিলেন। অন্যদিকে, লিওনেল মেসি নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ (২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) খেলছেন এবং এখনও পর্যন্ত ৩৩টি ম্যাচে ২১টি গোল করেছেন। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপেও মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠেছিল, যদিও সেইবার জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্স-আপ হতে হয়েছিল।
বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে নিজের মত জানাতে গিয়ে বাইচুং ভুটিয়া বলেন, তাঁর মতে স্পেন সামান্য এগিয়ে রয়েছে। কারণ, স্পেনের দলটি সব বিভাগেই অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ এবং গোটা দল একসঙ্গে দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে। তিনি বলেন, “স্পেনের একটি সম্পূর্ণ দল রয়েছে। বিশেষ করে তাদের মাঝমাঠ খুবই শক্তিশালী। তারা কোনও একক ফুটবলার বা বিশেষ মুহূর্তের ওপর নির্ভর করে না। দলগত ফুটবলই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি, আর সেটাই ফাইনালে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।”
একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনাকে কোনওভাবেই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। তাঁর ভাষায়, “এই টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা একাধিক ম্যাচে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তাদের পারফরম্যান্স কখন কী রূপ নেবে, তা বলা কঠিন। তবুও আমার মনে হয়, বিশ্বকাপ জেতার ক্ষেত্রে স্পেনের সম্ভাবনাই একটু বেশি।”
