আমরা অনেকেই মনে করি, ব্যাঙ্কের লকারে গয়না বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী রাখলে তা সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে। কিন্তু বাস্তবে ব্যাঙ্কের লকার থেকেও চুরির ঘটনা মাঝে মাঝে সামনে আসে। সম্প্রতি কানপুরের স্বরূপনগরের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখায় এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে। এক মহিলা অভিযোগ করেছেন, তাঁর ব্যাঙ্ক লকার থেকে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা মূল্যের গয়না ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী উধাও হয়ে গিয়েছে।
ব্যাঙ্কের লকার থেকে ৫০ লক্ষ টাকার গয়না চুরি
জানা গিয়েছে, ওই মহিলা প্রায় চার মাস পর নিজের ব্যাঙ্ক লকার পরীক্ষা করতে গিয়েছিলেন। লকার খুলে তিনি দেখতে পান, সেখানে রাখা তাঁর গয়না ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নেই। ঘটনার পর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং বর্তমানে তদন্ত চলছে। এই ধরনের ঘটনা সামনে এলে স্বাভাবিকভাবেই গ্রাহকদের মনে প্রশ্ন ওঠে—ব্যাঙ্কের লকার থেকে গয়না বা অন্য কোনও মূল্যবান জিনিস চুরি হয়ে গেলে তার দায় কার? এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহক কতটা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী? ব্যাঙ্ক লকার সংক্রান্ত নিয়ম এবং গ্রাহকের অধিকার কী, তা জেনে রাখা তাই অত্যন্ত জরুরি।
লকার থেকে মূল্যবান সামগ্রী চুরি হলে RBI-এর নিয়ম কী?
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-এর নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাঙ্কের লকারে রাখা গয়না বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী চুরি হয়ে গেলে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যাঙ্ককে সরাসরি দায়ী করা যায় না। তবে তদন্তে যদি ব্যাঙ্কের কোনও গাফিলতি বা নিরাপত্তার ত্রুটি প্রমাণিত হয়, সেক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের উপর দায় বর্তাতে পারে। যেমন, সিসিটিভি ক্যামেরা ঠিকমতো কাজ না করা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা অ্যালার্ট সিস্টেমে ত্রুটি থাকা কিংবা ব্যাঙ্কের কোনও কর্মীর ভুল বা গাফিলতির কারণে চুরি হলে গ্রাহক ক্ষতিপূরণের দাবি করতে পারেন।
তবে সব পরিস্থিতিতেই ব্যাঙ্ককে দায়ী করা যায় না। ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে কোনও ধরনের গাফিলতি বা নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি প্রমাণিত না হলে, লকারে রাখা সামগ্রী চুরি বা নষ্ট হওয়ার সম্পূর্ণ দায় ব্যাঙ্কের উপর চাপানো যাবে না। এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশি তদন্ত এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হয়, ঘটনার জন্য কার দায় রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী কি না।
চুরি বা উধাও হয়ে যাওয়া সামগ্রীর জন্য কত ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়?
এখন প্রশ্ন হল, এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহক কত টাকা ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন? RBI-এর ২০২২ সালের সংশোধিত লকার সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাঙ্কের গাফিলতির কারণে লকারে রাখা সামগ্রী চুরি বা উধাও হয়ে গেলে ব্যাঙ্ককে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে গ্রাহককে ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। তবে এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ সীমাহীন নয়। নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাঙ্কের দায় লকারের বার্ষিক ভাড়ার সর্বোচ্চ ১০০ গুণ পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ, কোনও গ্রাহকের লকারের বার্ষিক ভাড়া যদি ৫,০০০ টাকা হয়, তাহলে নির্ধারিত পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের দায় তৈরি হতে পারে। তাই লকার থেকে গয়না বা মূল্যবান সামগ্রী চুরি যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে প্রথমেই খতিয়ে দেখা হয়, ব্যাঙ্কের কোনও গাফিলতি বা নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি ছিল কি না।
