বারুইপুর কাণ্ডে উত্তেজনা, আজ কি নিহতের বাড়িতে যাবেন মমতা?

-

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের পর খুনের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার পর রাতভর তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ তিনজন সন্দেহভাজনকে আটক করে। পরে তাদের মধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত দ্রুত এগিয়ে চলছে।

তদন্ত কোন পথে?

শনিবার থেকে নিখোঁজ থাকার পর রবিবার সকালে একটি পুকুর থেকে ১২ বছরের এক কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জনরোষের জেরে এক যুবককে মারধর করে হত্যার অভিযোগও উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে রাজ্য সরকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে।

- Advertisement -

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। একটি মামলা নাবালিকার মৃত্যু ও হত্যার অভিযোগে, দ্বিতীয়টি জনতার হাতে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় এবং তৃতীয়টি পুলিশকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে রুজু করা হয়েছে। তদন্তকারীরা প্রতিটি ঘটনার পৃথকভাবে তদন্ত করছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

বারুইপুর যেতে পারবেন মমতা?

সোমবার নিহত কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে, নিহত নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, রবিবার তাঁকে ঘটনাস্থলে যেতে বাধা দেওয়া হয়। সেই সময় তাঁর বাড়ির চারপাশে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল এবং ব্যারিকেড দিয়ে এলাকা ঘিরে রাখা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। সোমবার সকালেও কালীঘাটে তাঁর বাসভবনের বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের মোতায়েন থাকতে দেখা যায়। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

- Advertisement -

পরিবারের কী দাবি?

নিহত নাবালিকার বাবার সঙ্গে রবিবার ফোনে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি, মঙ্গলবার ভবানীভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্যও কিশোরীর বাবাকে বলা হয়েছে বলে পরিবারের দাবি। এদিকে, আইজি (প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ) কঙ্করপ্রসাদ বারুই জানিয়েছেন, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

- Advertisement -

পরিবারের অভিযোগ, কিশোরীকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তের স্বার্থে যাঁর সঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার আগে কিশোরীকে শেষবার দেখা গিয়েছিল, তাঁকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া, জনতার গণপিটুনিতে নিহত যুবক স্থানীয় এক অটোচালক বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT), এবং ফরেন্সিক ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

🔔 সর্বশেষ খবর সবার আগে পেতে যুক্ত হন

ব্রেকিং নিউজ, চাকরির খবর, টেক আপডেট ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আমাদের WhatsAppTelegram চ্যানেলে এখনই যুক্ত হন।

Breaking News