শনিবার রাজ্যে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে ইতিমধ্যেই তুঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা। প্রথমবার বাংলার মসনদে বসতে চলেছেন কোনও বিজেপি নেতা, ফলে এই দিনটিকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবেই দেখছে গেরুয়া শিবির। সেই কারণেই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে তুলতে জাঁকজমক ও আয়োজনের কোনও খামতি রাখতে চাইছে না বিজেপি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা নরেন্দ্র মোদি-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। শুধু রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়, গোটা আয়োজনকে আরও বিশেষ করে তুলতে সাংস্কৃতিক পর্ব ও একাধিক আকর্ষণীয় অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
শনিবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এখন তুমুল চর্চা চলছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা স্বয়ং নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ-এর। এছাড়াও বিজেপি শাসিত ২১টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং বাংলার বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রাখতে বিরোধী দলগুলির প্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। আমন্ত্রণ পেতে পারেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। একইসঙ্গে রীতি মেনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কেও আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কংগ্রেসের প্রতিনিধিদেরও অনুষ্ঠানে ডাকার প্রস্তুতি চলছে।
এবারের নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই বাঙালিয়ানার উপর বিশেষ জোর দিতে দেখা গিয়েছে বিজেপিকে, আর সেই ছাপ এবার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠতে চলেছে। বিশেষ তাৎপর্যের বিষয় হলো, নতুন বিজেপি সরকারের শপথ হচ্ছে রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিনেই। তাই গোটা অনুষ্ঠানে বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ছোঁয়া রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক জগতের বহু বিশিষ্ট মানুষকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। পাশাপাশি আলাদা সাংস্কৃতিক মঞ্চও তৈরি করা হচ্ছে। ‘ভিভিআইপি’ অতিথিরা মূল মঞ্চেই উপস্থিত থাকবেন এবং মঞ্চের সামনের অংশে বিশিষ্ট অতিথিদের বসার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে। শুধু রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়, সাংস্কৃতিক আবহও তৈরি করতে শপথের আগে একটি রবীন্দ্রসঙ্গীতের অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
সূত্রের খবর, শনিবার Brigade Parade Ground-এ আয়োজিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী, উপমুখ্যমন্ত্রী-সহ একাধিক মন্ত্রী একসঙ্গে শপথ নিতে পারেন। জানা গিয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য তালিকা চূড়ান্ত করার আগে অমিত শাহ আরএসএস নেতৃত্বের সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ফলে কারা ব্রিগেডের শপথমঞ্চে জায়গা পাবেন, কারা নতুন মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হচ্ছেন—তা নিয়ে এখন গেরুয়া শিবিরের জয়ী বিধায়কদের মধ্যে প্রবল কৌতূহল ও টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের নজরও এখন সেই সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার দিকেই।
