সাদিকুল খান, কলকাতাঃ পুরুলিয়ার বালারামপুর শহরের প্রান্তে বিদ্যুৎ সাবস্টেশনের কাছে রাতের নিয়মিত নাকা চেকিং চলছিল। ন্যাশনাল হাইওয়ে ১৮ দিয়ে যাওয়া ট্রাক, গাড়ি ও বাইক থামিয়ে তল্লাশি করছিল পুলিশ। রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ পুরুলিয়া শহরের দিক থেকে একটি লাল TVS Apache বাইক এসে দাঁড়ায়। বাইকটি চালাচ্ছিলেন ২১ বছরের অমিত কুমার মাহাতো। পিছনের সিটে বাঁধা ছিল একটি ভারী সাদা প্লাস্টিকের বস্তা, গ্রামবাংলায় কৃষিজাত পণ্য বহনের জন্য এমন বস্তা প্রায়ই ব্যবহার করা হয়। কিন্তু টর্চের আলো ফেলতেই পুলিশের সন্দেহ হয়। দেখা যায়, বস্তাটি দড়ি দিয়ে নয়, USB চার্জারের তার ও বিভিন্ন তার দিয়ে বাঁধা। আর সেই বস্তা থেকেই টুপটাপ করে রক্ত পড়ছিল রাস্তায়।
পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে বাইকচালককে বস্তাটি খুলতে নির্দেশ দেয়। বস্তা কাটতেই ভিতর থেকে বেরিয়ে আসে এক তরুণীর রক্তাক্ত দেহ। তাঁর গলার বাঁ দিকে ছিল গভীর ও গুরুতর ক্ষত। ঘটনাস্থলেই পুলিশ অমিতকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তিনি পালানোর কোনও চেষ্টা করেননি। জেরায় অমিত জানান, বস্তার ভিতরে থাকা তরুণী তাঁরই প্রেমিকা, ১৯ বছরের প্রীতিকা মাহাতো। এরপরই পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অমিত ও প্রীতিকা দু’জনেই পাশাপাশি গ্রামের বাসিন্দা। অমিতের বাড়ি হুরুমদায় এবং প্রীতিকার বাড়ি বুরদায়। কয়েক বছর আগে একটি কোচিং ইনস্টিটিউটে তাদের পরিচয় হয়। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ে ওঠে দু’জনের মধ্যে। ঘটনার সময় পুরুলিয়া শহরের উপকণ্ঠে তামনার কাছে একটি পেয়িং গেস্ট (PG) আবাসনে থাকতেন দু’জনেই। পুলিশ জানিয়েছে, অমিত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অন্যদিকে, প্রীতিকা নার্সিংয়ের প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।
পুলিশের দাবি, সম্পর্কের নানা সমস্যা, ঝগড়া এবং একে অপরকে নিয়ে সন্দেহের জেরেই অমিত তাঁর PG-তে প্রীতিকাকে খুন করেন। অভিযোগ, ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রীতিকার গলায় আঘাত করার পর তোয়ালে দিয়ে তাঁকে শ্বাসরোধ করা হয়।
পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা হয়েছে। তাঁর ধারণা, খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটি PG-র মধ্যেই থাকতে পারে। ফরেন্সিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবে। প্রাথমিক তদন্তে খুনের পিছনে ব্যক্তিগত ও সম্পর্কজনিত কারণই উঠে এসেছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে।
