রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক স্তরেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল কংগ্রেসকে-কে হারিয়ে এবার সরকার গঠন করতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। আর ক্ষমতায় আসার আগেই প্রশাসনিক কাজকর্মে নতুন ছাপ ফেলতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। সূত্রের খবর, এতদিন সরকারি চিঠিপত্র ও বিভিন্ন নথিতে ব্যবহৃত পরিচিত ‘ব’ বিশ্ব বাংলার (Biswa Bangla) লোগো ধীরে ধীরে সরানো হতে পারে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির নাম নিয়ে রাজ্যের এতদিনের অনড় অবস্থানেও বদলের ইঙ্গিত মিলছে।
সরকারি চিঠিতে লোগো বিতর্ক
ক্ষমতায় থাকাকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে প্রায় সমস্ত সরকারি চিঠিপত্র, নথি ও ফাইলে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহার করা হতো Biswa Bangla-র পরিচিত বৃত্তাকার লোগো। যদিও তার উপরে জাতীয় প্রতীক অশোক স্তম্ভ থাকত, তবুও আকারে ছোট হওয়ায় নজর কাড়ত মূলত বিশ্ববাংলার লোগোটিই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মুখ্য সচিব Dushmanta Nariala বিভিন্ন দফতরের সচিব, জেলাশাসক ও পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে যে বার্তা পাঠাচ্ছেন, সেখানে আর সেই পরিচিত লোগো দেখা যাচ্ছে না। পরিবর্তে শুধু ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার’ এবং মুখ্য সচিবের দফতরের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই পরিবর্তন ভবিষ্যতের বড় প্রশাসনিক রদবদলের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় অনুদানভিত্তিক প্রকল্পগুলির নাম পরিবর্তন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই অবস্থায় বদলের ইঙ্গিত মিলছে। সূত্রের খবর, আগে যেসব প্রকল্প রাজ্য নিজস্ব নামে চালাত—যেমন আবাস যোজনা—সেগুলিতে এবার কেন্দ্র সরকারের আসল নামই ব্যবহার করা শুরু হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সরকারি দফতরের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ এবং WhatsApp গ্রুপগুলিতেও রাজ্যের দেওয়া নামের বদলে কেন্দ্রের নির্ধারিত নাম ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
একইসঙ্গে নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থায় দিল্লির সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অন্দরমহলের খবর, কেন্দ্রীয় সরকার কোনও তথ্য চাইলে তা দ্রুত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা, খরচের হিসাব এবং অগ্রগতির রিপোর্ট নিখুঁতভাবে তৈরি রাখতেও জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনিক কাজে আরও পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতা ফেরাতে প্রতিটি দফতরকে সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
উল্লেখ্য, বাম জমানার পর তৃণমূল আমলে যখন বিশ্ব বাংলা লোগো চালু হয়েছিল, তখন তার মালিকানা এবং হস্তক্ষেপ নিয়ে জলঘোলা কম হয়নি। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন যে, সরকার ব্যবহার না করলে লোগোটি তার কাছেই ফিরে যাবে। আর বর্তমানে সেই লোগো সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ প্রশাসনিক পরিচয়কে দলীয় বা ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং থেকে মুক্ত করতে চাইছে বিজেপি।
