সকাল থেকে একনাগাড়ে বৃষ্টি হয়েই চলেছে। দিন-রাত টানা বৃষ্টির জেরে ইতিমধ্যেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে জলমগ্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে বঙ্গোপসাগরে নতুন করে একটি নিম্নচাপ তৈরি হওয়ায় কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির দাপট আরও বেড়েছে। টানা বৃষ্টিতে সাধারণ মানুষের নাজেহাল অবস্থা, ফলে সবার মনেই এখন একটাই প্রশ্ন—কবে কমবে এই নিম্নচাপের প্রভাব, আর কবে স্বাভাবিক হবে পরিস্থিতি? এই পরিস্থিতির মধ্যেই আবহাওয়া নিয়ে বড় আপডেট দিল হাওয়া অফিস।
অবশেষে বিদায় নিচ্ছে বর্ষা?
আবহাওয়া দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের উত্তর-পশ্চিম অংশে ধীরে ধীরে আবহাওয়ার পরিবর্তন শুরু হয়েছে। পঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি-NCR, রাজস্থান-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় শুষ্ক উত্তর-পশ্চিম হাওয়া সক্রিয় হওয়ায় আগামী দিনে বৃষ্টির পরিমাণ কমতে পারে। অর্থাৎ ধীরে ধীরে বর্ষা বিদায়ের ইঙ্গিত মিললেও পশ্চিমবঙ্গে এখনও সক্রিয় থাকবে মৌসুমি বায়ু। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে নতুন করে একটি নিম্নচাপ তৈরি হওয়ায় দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ফের বৃষ্টির দাপট বেড়েছে। এই নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে।
আজও থাকবে বৃষ্টির আমেজ
জানা গিয়েছে, আজও নিম্নচাপের কারণে বিকেলে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। শুধু তাই নয়, দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হবে। পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে বইবে। তাই আজ অবধি পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে জলপাইগুড়ি এবং কালিম্পঙে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, কোচবিহারের মতো উত্তরের বাকি জেলায় মঙ্গলবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে।
রাজ্যে বর্ষা বিদায় নিয়ে এখনও তেমন কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলেনি। সাধারণত দেশের উত্তর-পশ্চিম অংশ থেকেই সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে বর্ষা সরে যেতে শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে মৌসুমি বায়ু বিদায় নেয় এবং প্রায় ১০ অক্টোবরের আশপাশে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের কিছু এলাকা থেকেও বর্ষা সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। সাধারণত ১৫ অক্টোবরের মধ্যে দেশের অধিকাংশ অংশ থেকে বর্ষা বিদায় নেয়। তবে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে অক্টোবরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত বর্ষার প্রভাব থাকতে পারে। ফলে এখনই রাজ্যে বর্ষা বিদায়ের সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।
