কুসুম দাস, কলকাতা: বর্ষাকাল তুলসী গাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য বেশ উপযোগী। এই সময় বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে এবং আবহাওয়াও তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে, ফলে তুলসী গাছে নতুন পাতা ও ডালপালা দ্রুত গজাতে শুরু করে। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টি, মাটিতে জল জমে থাকা এবং পর্যাপ্ত সূর্যালোকের অভাব গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই বর্ষাকালে তুলসী গাছকে শুধু বৃষ্টির জলের উপর নির্ভর করে রাখলে চলবে না। অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে শিকড় পচে যেতে পারে এবং পাতাও হলুদ হয়ে যেতে পারে। এই সময় গাছের সঠিক যত্ন নিলে তুলসীকে ঘন, সতেজ ও স্বাস্থ্যকর রাখা সম্ভব। কয়েকটি সহজ কৌশল মেনে চললেই বর্ষার মরশুমে তুলসী গাছের বৃদ্ধি ভালোভাবে বজায় থাকবে।
তুলসী গাছ ঘন করতে নিয়মিত ছাঁটাই করুন
তুলসী গাছকে সতেজ ও ঘন রাখতে নিয়মিত ছাঁটাই করা খুবই জরুরি। গাছের উপরের দিকে বেড়ে ওঠা নরম ডগা আঙুল দিয়ে আলতো করে চিমটি কেটে বা ছেঁটে দিলে নিচের দিক থেকে নতুন শাখা বের হতে শুরু করে। এর ফলে তুলসী শুধু একটি কাণ্ড বরাবর লম্বা না হয়ে ধীরে ধীরে ঝোপের মতো ঘন হয়ে ওঠে। পাশাপাশি, গাছে কুঁড়ি বা ফুল আসতে শুরু করলে সেগুলিও সময়মতো ছেঁটে দিতে পারেন। এতে তুলসী বীজ তৈরির বদলে নতুন পাতা ও ডালপালা গজানোর দিকে বেশি শক্তি দিতে পারে। নিয়মিত এই পদ্ধতি মেনে চললে বর্ষাকালেও তুলসী গাছ দেখতে আরও সতেজ ও ঘন হবে।
বর্ষায় তুলসী গাছে অতিরিক্ত জল দেওয়া এড়িয়ে চলুন
ভারী বর্ষার সময়ে তুলসী গাছের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হতে পারে অতিরিক্ত জল দেওয়ার কারণে। একটানা বৃষ্টিতে টবের মাটি যদি এমনিতেই ভেজা থাকে, তাহলে বাইরে থেকে আলাদা করে জল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। জল দেওয়ার আগে আঙুল দিয়ে মাটির উপরের অংশটা পরীক্ষা করে নিন। মাটি শুকনো মনে হলেই কেবল প্রয়োজন অনুযায়ী জল দিন। পাশাপাশি, টবের নীচে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ হোল বা জল বের হওয়ার ছিদ্র থাকা জরুরি, যাতে অতিরিক্ত জল জমে না থাকে। দীর্ঘক্ষণ টবে জল জমে থাকলে তুলসীর শিকড়ে পচন ধরতে পারে এবং ধীরে ধীরে গাছ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
তুলসী গাছের জন্য পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করুন
তুলসী গাছের ভালো বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো অত্যন্ত জরুরি। বর্ষাকালে আকাশ বেশিরভাগ সময় মেঘলা থাকায় গাছ পর্যাপ্ত আলো না-ও পেতে পারে। তাই সম্ভব হলে তুলসী গাছটিকে এমন জায়গায় রাখুন, যেখানে দিনের বেশিরভাগ সময় ভালো প্রাকৃতিক আলো আসে। বৃষ্টি না থাকলে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টার জন্য গাছটিকে হালকা রোদে রাখলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়। পর্যাপ্ত আলো তুলসী পাতার সতেজ সবুজ রং বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং নতুন পাতা ও ডালপালা গজানোর প্রক্রিয়াকেও উৎসাহিত করে।
তুলসীর টবের মাটি কেমন হওয়া উচিত?
তুলসী গাছের ভালো বৃদ্ধির জন্য শুধু সার ব্যবহার করলেই হবে না, মাটির গুণমানের দিকেও নজর দিতে হবে। তুলসীর টবের মাটি এমন হওয়া উচিত, যাতে অতিরিক্ত জল জমে না থেকে সহজেই বেরিয়ে যেতে পারে। এর জন্য বাগানের মাটির সঙ্গে কিছুটা বালি বা নুড়ি এবং ভালোভাবে পচানো জৈব সার মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে মাটি অতিরিক্ত ভারী বা শক্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে এবং শিকড়ের কাছে পর্যাপ্ত বাতাস পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে বর্ষাকালে মাটিতে অতিরিক্ত আর্দ্রতা জমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক ড্রেনেজযুক্ত ঝুরঝুরে মাটি তুলসী গাছকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে সাহায্য করবে।
বর্ষায় তুলসী গাছে কতটা সার দেবেন?
বর্ষাকালে তুলসী গাছ দ্রুত বাড়তে থাকায় মাটিতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি বজায় রাখাও জরুরি। নির্দিষ্ট সময় অন্তর অল্প পরিমাণে ভার্মিকম্পোস্ট বা ভালোভাবে পচানো জৈব সার মাটিতে মিশিয়ে দিতে পারেন। তবে অতিরিক্ত সার ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সার গাছের উপকারের বদলে ক্ষতি করতে পারে। তাই গাছের প্রয়োজন বুঝে অল্প পরিমাণে সার দেওয়াই ভালো। পাশাপাশি বর্ষায় বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় তুলসী গাছে ছোট পোকামাকড় বা ছত্রাকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সপ্তাহে অন্তত এক-দুবার পাতা ও কাণ্ড ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। পাতায় পোকামাকড়ের উপস্থিতি দেখা গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী নিমভিত্তিক স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন।
