বর্তমানে অনলাইন পেমেন্টের ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও বড় অঙ্কের লেনদেন এখনও অনেকেই চেক ব্যবহার করেন। তবে অনেক সময় অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকা, ভুল স্বাক্ষর, বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত কারণে চেক বাউন্স (Cheque Bounce) হয়ে যায়। অনেকেই এটিকে সাধারণ ব্যাঙ্কিং সমস্যা বলে মনে করলেও। কারণ চেক বাউন্স হলে শুধু জরিমানা নয়, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইনি মামলাও হতে পারে এবং এমনকি জেল পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই চেক ব্যবহারের আগে এই সম্পর্কিত নিয়ম ও সতর্কতাগুলি জেনে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Cheque Bounce কী?
চেক বাউন্স সাধারণত তখনই হয়, যখন কোনও ব্যক্তি চেক ইস্যু করেন কিন্তু তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স থাকে না। এছাড়াও ভুল স্বাক্ষর, অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকা, চেকের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত কারণে ব্যাঙ্ক যদি সেই চেক অনুমোদন না করে ফেরত পাঠায়, তাহলে সেটিকেই Cheque Bounce বলা হয়।
কী কী কারণে চেক বাউন্স হতে পারে?
চেক বাউন্স হওয়ার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ কারণ হল অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকা। এছাড়াও ব্যাঙ্কে থাকা স্বাক্ষরের সঙ্গে চেকের Signature Match না করলে, চেকের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে, চেকে ওভাররাইটিং বা ভুল তথ্য থাকলে ব্যাঙ্ক সেটি বাতিল করতে পারে। অনেক সময় অ্যাকাউন্ট ইনঅ্যাক্টিভ থাকলেও বা অ্যাকাউন্ট হোল্ডার আগে থেকেই Payment Stop Instruction দিয়ে রাখলে চেক বাউন্স হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
Cheque Bounce হলে কী হয়?
চেক বাউন্স হলে ব্যাঙ্ক সাধারণত অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের কাছ থেকে জরিমানা বা পেনাল্টি চার্জ কেটে নিতে পারে। এই চার্জ ব্যাঙ্কভেদে ভিন্ন হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে কয়েকশো টাকা থেকে শুরু করে হাজার টাকাও হতে পারে। শুধু তাই নয়, বারবার চেক বাউন্স হলে তা আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতার উপরও প্রভাব ফেলে এবং ভবিষ্যতে লোন বা ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে CIBIL Score-এর উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
চেক বাউন্স হলে শুধু আর্থিক জরিমানাই নয়, আইনি জটিলতাও তৈরি হতে পারে। Negotiable Instruments Act, 1881 অনুযায়ী চেক বাউন্স একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। চেক বাউন্স হওয়ার পর যিনি টাকা পাওয়ার কথা (Payee), তিনি সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে আইনি নোটিস পাঠাতে পারেন। ওই নোটিস পাওয়ার পর চেক ইস্যু করা ব্যক্তিকে ১৫ দিনের মধ্যে বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে Payee আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন এবং এর ফলে জরিমানা থেকে শুরু করে কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
সত্যিই কি জেল হতে পারে?
হ্যাঁ। আদালতে দোষ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে৷ এছাড়া চেকের টাকার দ্বিগুণ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে৷ অনেক সময় জেল ও জরিমানাদুটোই হতে পারে৷কোন পরিস্থিতিতে মামলা নাও হতে পারে?কিছু ক্ষেত্রে যেমন সই না মিললে, টেকনিক্যাল ভুল, ভুল তারিখ দেওয়া, এই সব ক্ষেত্রে চেক বাউন্স হলেও ফৌজদারি মামলা নাও হতে পারে।
Cheque Bounce এড়াতে কী করবেন?
চেক ইস্যু করার আগে সবসময় নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি স্বাক্ষর যেন ব্যাঙ্কে দেওয়া নমুনা স্বাক্ষরের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। চেকে কোনও ধরনের কাটাকাটি বা ওভাররাইটিং এড়িয়ে চলাই নিরাপদ, কারণ এতে চেক বাতিল হয়ে যেতে পারে। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ বা পুরনো চেক ব্যবহার না করাই ভালো। বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে ঝুঁকি এড়াতে অনলাইন ব্যাংক ট্রান্সফার বা ডিজিটাল পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করা অনেক বেশি নিরাপদ ও সুবিধাজনক।
চেক বাউন্স অনেক সময় সাধারণ ভুল বলে মনে হলেও এর আইনি প্রভাব বেশ গুরুতর হতে পারে। শুধু ব্যাঙ্কের চার্জ নয়, অনেক ক্ষেত্রে আইনি নোটিস, জরিমানা এমনকি পরিস্থিতি অনুযায়ী কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। তাই চেক ইস্যু করার আগে অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স, স্বাক্ষর ও চেকের সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে ভবিষ্যতে কোনও আর্থিক বা আইনি সমস্যার সম্মুখীন না হতে হয়।
