গবেষণাগারে তৈরি এক কৃত্রিম ডিম থেকে জন্ম নিল এক অবাক করা ঘটনা। কোনও মুরগি এই ডিম পাড়েনি, সম্পূর্ণ ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা হয়েছিল সেটি। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয়, সেই কৃত্রিম ডিম ফুটেই বেরিয়ে এসেছে একসঙ্গে ২৪টি আসল মুরগির ছানা। অর্থাৎ ডিমটি কৃত্রিম হলেও, তার ভেতর থেকে জন্ম নেওয়া ছানাগুলো একেবারেই স্বাভাবিক ও জীবন্ত।
কৃত্রিম ডিম গবেষণায় নতুন সাফল্য
তবে এই কৃত্রিম ডিমের সাফল্য মুরগির খামার বা পোলট্রি শিল্পে নতুন বিপ্লব আনার জন্য নয়। মার্কিন সংস্থাটির আসল লক্ষ্য অনেক বড়—হারিয়ে যাওয়া বা বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার প্রযুক্তি তৈরি করা। কৃত্রিম ডিমের ভেতর থেকে সফলভাবে মুরগির ছানা জন্ম দেওয়াকে তারা সেই দীর্ঘ গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবেই দেখছে। অর্থাৎ, এটি শুধু মুরগি উৎপাদনের পরীক্ষা নয়, ভবিষ্যতে বিপন্ন বা হারিয়ে যাওয়া প্রাণীদের পুনরুজ্জীবিত করার পথে এক বড় অগ্রগতি।
তাদের লক্ষ্য হল জায়ান্ট মোয়া নামে একটি পাখিকে ফের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা। প্রায় ৫০০ বছর আগে নিউজিল্যান্ডে এই জায়ান্ট মোয়া পাখিদের দেখা পাওয়া যেত। এ পাখিরা উড়তে পারত না। সে সময় এদের এত শিকার হয় যে ওই সময় জায়ান্ট মোয়া পাখি পৃথিবী থেকে উধাও হয়ে যায়।
ডি-এক্সটিঙ্কশন প্রযুক্তিতে এগোচ্ছে মার্কিন সংস্থা
এবার লক্ষ্য আরও বড়। এই মার্কিন সংস্থা নজর দিয়েছে বহু আগেই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া জায়ান্ট মোয়া পাখিকে ফিরিয়ে আনার দিকে। প্রাচীন ডিএনএ ব্যবহার করে সেই বিশালাকৃতির পাখিকে আবার জীবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন গবেষকরা। আর কৃত্রিম ডিম থেকে সফলভাবে মুরগির ছানা ফোটানোকে তারা দেখছে সেই পরীক্ষারই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে।
জায়ান্ট মোয়া শুধু নয়, বহু আগেই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ডোডো পাখিকেও ফের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে টেক্সাসের Colossal Biosciences। সংস্থাটির মূল কৌশল হলো হারিয়ে যাওয়া প্রাণীদের প্রাচীন ডিএনএ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে সেই জিনগত তথ্যের ভিত্তিতে তাদের পুনরুজ্জীবিত করার প্রযুক্তি তৈরি করা। জায়ান্ট মোয়া ও ডোডোর মতো বিলুপ্ত প্রাণীর পাশাপাশি তারা আরও একাধিক ‘ডি-এক্সটিঙ্কশন’ প্রকল্পে কাজ করছে।
