Homeপ্রকল্পসরকারি প্রকল্পবাংলায় চালু হচ্ছে বিশ্বকর্মা যোজনা, কীভাবে আবেদন করবেন?

বাংলায় চালু হচ্ছে বিশ্বকর্মা যোজনা, কীভাবে আবেদন করবেন?

-

বাংলায় এবার ডবল ইঞ্জিন সরকারের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই আবহেই সোমবার নবান্নে অনুষ্ঠিত হল নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক। আর বৈঠক শেষ হতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তার মধ্যেই বিশ্বকর্মা যোজনা (Vishwakarma Yojana) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিশ্বকর্মা যোজনা এবার বাংলাতেও কার্যকর হবে। এই প্রকল্প আমাদের যারা বিশ্বকর্মা রয়েছেন অর্থাৎ হাতের কাজ করেন, তাদের জন্যই। কামার থেকে শুরু করে কুমোর, কুম্ভকার, স্বর্ণকার, মালাকার, নাপিত, যারা ৮ লক্ষ ৬৫ হাজার আবেদন করে রেখেছিলেন, আগের সরকার কাদের সেই আবেদন জেলাশাসকদের কেন্দ্রের এমএসএমই দফতরে পাঠাতেই দেননি। আমরা সেই আবেদনগুলোকে আবারও পুনরায় পাঠানোর ব্যবস্থা নিলাম।

- Advertisement -

কী এই বিশ্বকর্মা যোজনা? (Vishwakarma Yojana)

জানিয়ে দিই, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা হল কেন্দ্রীয় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, যার মূল উদ্দেশ্য ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের আর্থিকভাবে শক্তিশালী করে তোলা। বিশেষ করে কারিগর ও হস্তশিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের জন্য এই প্রকল্পে জামানতমুক্ত ঋণ, দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার সহায়তা এবং ডিজিটাল লেনদেনের জন্য বিশেষ ইনসেনটিভের সুবিধা দেওয়া হয়। ফলে ছোট ব্যবসায়ীরা নিজেদের কাজ আরও ভালোভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন এবং দেশীয় শিল্প ও পণ্যকে বড় বাজারে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পান।

বলার অপেক্ষা রাখে না, নির্বাচনী প্রচারে এসে Narendra Modi নিজেই বাংলার মানুষের জন্য ‘মোদীর ১০ গ্যারান্টি’-র অংশ হিসেবে বিশ্বকর্মা যোজনা (Vishwakarma Yojana) চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল সেই সমস্ত শিল্পী ও কারিগরদের পাশে দাঁড়ানো, যাঁরা হাতের কাজ বা সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে নিজেদের শিল্পকলা ও জীবিকা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: ১ জুন থেকে মহিলাদের জন্য বড় সুখবর! অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে মিলবে ৩০০০ টাকা

কী কী সুবিধা দেওয়া হয় এই প্রকল্পে?

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনার (Vishwakarma Yojana) আওতায় কারিগর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য পাঁচ থেকে সাত দিনের বেসিক ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু প্রশিক্ষণই নয়, ট্রেনিং চলাকালীন প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে স্টাইপেন্ডও দেওয়া হয়, যাতে অংশগ্রহণকারীরা আর্থিক সমস্যায় না পড়েন। প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ হলে একটি সরকারি সার্টিফিকেট ও পরিচয়পত্রও দেওয়া হয়।

এই প্রকল্পের অন্যতম বড় সুবিধা হল আধুনিক যন্ত্রপাতি বা সরঞ্জাম কেনার জন্য ই-ভাউচারের মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি যারা নিজের ব্যবসা আরও বড় করতে চান বা নতুনভাবে শুরু করতে চান, তাঁদের জন্য রয়েছে মোট ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণের সুবিধা। প্রথম ধাপে ১ লক্ষ টাকা এবং পরে দ্বিতীয় ধাপে ২ লক্ষ টাকা ঋণ দেওয়া হয়। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই ঋণের সুদের হার মাত্র ৫ শতাংশ, ফলে ছোট ব্যবসায়ীদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপও অনেকটাই কম পড়ে।

আবেদনের শর্তাবলী

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনায় আবেদন করতে গেলে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত মানা বাধ্যতামূলক। সবার আগে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে এবং তাঁকে অবশ্যই স্ব-নিযুক্ত বা নিজের পেশার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকতে হবে। বিশেষ করে কাঠমিস্ত্রি, নৌকা নির্মাতা, কামার, কুমোর, তালামিস্ত্রি, স্বর্ণকার, মুচি, রাজমিস্ত্রি, নাপিত, মালাকার, ধোপা, দর্জির মতো ঐতিহ্যবাহী পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন।

এছাড়াও আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম রয়েছে। আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের কেউ গত পাঁচ বছরের মধ্যে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কোনও স্ব-কর্মসংস্থান বা ব্যবসাভিত্তিক ঋণ সুবিধা পেয়ে থাকলে এই প্রকল্পের সুবিধা মিলবে না। একই পরিবারের শুধুমাত্র একজন সদস্য আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি পরিবারের কোনও সদস্য সরকারি চাকরির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এই প্রকল্পের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

কীভাবে আবেদন করতে হবে এই প্রকল্পে?

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনায় অনলাইন এবং অফলাইন দু’ভাবে আবেদন করা যায়। অনলাইনে আবেদন করতে গেলে নিম্নলিখিত ধাপগুলি অনুসরণ করুন-

  • প্রথমে পিএম বিশ্বকর্মা যোজনার পোর্টালে (https://pmvishwakarma.gov.in/) গিয়ে হোম সেকশনে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়।
  • তারপর আধার কার্ডের কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
  • এরপর যাবতীয় তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ করে আবেদন করতে হয়।
  • তবে পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলো আপলোড করতে হয়।

অফলাইনে আবেদন করার জন্য নিকটতম কোনও কমন সার্ভিস সেন্টারে যেতে হয়। আধার কার্ড এবং মোবাইল নম্বর সঙ্গে রাখতে হবে। সেখানে মোবাইল নম্বর এবং আধার ভেরিফিকেশন করতে হবে। তারপর বায়োমেট্রিক অথেন্টিফিকেশন মাধ্যমে সরাসরি আবেদন করে নিতে পারবেন।

- Advertisement -
- Advertisement -
Breaking News
- Advertisement -
Related Stories
- Advertisement -