সাদিকুল খান, কলকাতাঃ রবিবার সকালে কলকাতার চিৎপুরের নবাবপট্টি এলাকায় একটি কেমিক্যাল কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরু হয় যুদ্ধকালীন তৎপরতা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সিভিল ডিফেন্সের কর্মী এবং পুলিশও।
দমকলের ১২টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে, শুরু যুদ্ধকালীন তৎপরতা
জানা গিয়েছে, রবিবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে নবাবপট্টি এলাকার ওই কেমিক্যাল কারখানায় আগুন লাগে। খবর পেয়েই প্রথমে পাঁচটি দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে। তবে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় পরে আরও ছয়টি ইঞ্জিন পাঠানো হয়। সব মিলিয়ে দমকলের ১২টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজে নামে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলের পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সিভিল ডিফেন্স এবং পুলিশও ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে।
আরও পড়ুন: ১০০ বছরের ব্যবসায় বড় ধাক্কা! টাটাকে কেনিয়া ছাড়ার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির
দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় দ্রুত ছড়ানোর আশঙ্কা
কারখানার ভিতরে দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তার উপর কারখানাটির আশপাশে আরও একাধিক কারখানা থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেন দমকলকর্মীরা। প্রথমে চারপাশে হোস পাইপের মাধ্যমে জল ছড়িয়ে আগুনের বিস্তার আটকানোর চেষ্টা করা হয়। এরপর আগুনের উৎসের কাছে পৌঁছে শুরু হয় মূল অগ্নিনির্বাপণ অভিযান। জানা গিয়েছে, রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় কারখানাটি বন্ধ ছিল। তাই আগুন লাগার সময় ভিতরে কেউ ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তালাবন্ধ গেট গ্যাস কাটার দিয়ে কেটে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন উদ্ধারকারীরা।
প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকল
প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কোনও কারণে এই অগ্নিকাণ্ড, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টার পর দমকলকর্মীরা আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও এলাকায় নজরদারি চালানো হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে পরবর্তী তদন্ত শুরু করা হবে।
