ভোটার তালিকা ও রেশন কার্ডের তথ্য মিলিয়ে দেখার কাজ শুরু হতেই সামনে এল বড় তথ্য। এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খাদ্য দফতর ভোটার তালিকার সঙ্গে রেশন ডেটাবেস মিলিয়ে দেখছে। এই যাচাইয়ের সময় কোচবিহার জেলায় দেখা গিয়েছে, প্রায় ৬২ হাজার ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় থাকলেও তাঁদের নামে কোনও রেশন কার্ড নেই। এই তথ্য সামনে আসতেই প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। খাদ্য দফতরের প্রাথমিক অনুমান, যাচাই প্রক্রিয়া এগোলে এমন ভোটারের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
রেশন তালিকা যাচাই করতে গিয়ে সামনে এল তথ্য
কোচবিহার জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় জেলার প্রায় ১ লক্ষ ২২ হাজার ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এছাড়া প্রায় ১ লক্ষ মানুষের মামলা বিচারাধীন থাকায় তাঁদের নামও মূল তালিকা থেকে আলাদা রাখা হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা মেনে এই মোট ১ লক্ষ ৯৮ হাজার ব্যক্তির তালিকা খাদ্য দফতরের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে রেশন ডেটাবেসের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা যায়।
ইতিমধ্যেই খাদ্য দফতর ১ লক্ষ ২০ হাজার জনের তথ্য যাচাই করেছে। সেই যাচাইয়ে দেখা গেছে, প্রায় ৬২ হাজার ব্যক্তির নামে কোনও রেশন কার্ডই নেই, যদিও তাঁরা এতদিন ভোটার পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। এই তথ্য সামনে আসায় প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁদের নাম চূড়ান্তভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে, তাঁদের রেশন কার্ডও বাতিল করা হবে এবং তাঁরা সরকারি রেশন সুবিধা পাবেন না। তবে যাঁদের মামলা এখনও ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন, তাঁদের ক্ষেত্রে এখনই কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। কোচবিহার জেলায় ইতিমধ্যেই প্রায় ১২ হাজার মানুষ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন, তাই আপাতত তাঁদের রেশন সুবিধা চালু থাকবে। জেলা প্রশাসনের পাঠানো ১ লক্ষ ৯৮ হাজার নামের তালিকার মধ্যে এখনও প্রায় ৭৮ হাজার জনের তথ্য যাচাই বাকি রয়েছে। খাদ্য দফতর জানিয়েছে, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
তবে ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও কেন প্রায় ৬২ হাজার মানুষের কোনও রেশন কার্ড নেই, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। যেহেতু কোচবিহার একটি সীমান্তবর্তী জেলা, তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খাদ্য দফতরের প্রাথমিক ধারণা, এই তালিকার বড় একটি অংশ মৃত ভোটারের হতে পারে, যাঁদের নাম রেশন ব্যবস্থার নিয়ম অনুযায়ী আগেই বাদ পড়েছে। এছাড়া অনেক পরিযায়ী শ্রমিক ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও কখনও রেশন কার্ডের জন্য আবেদন করেননি। ফলে তাঁদের নাম রেশন ডেটাবেসে নেই। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত যাচাই চলছে এবং সব তথ্য মিলিয়ে দেখার পরেই প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি সামনে আসবে।
