সাদিকুল খান , কলকাতাঃ কোচবিহারের সিতাইয়ে একটি আশ্রমের ভিতরে এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় এক সন্ন্যাসী মহারাজের থাকার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, আশ্রমের মধ্যেই ওই সন্ন্যাসীর সঙ্গে তরুণীর আপত্তিকর মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হয় এবং সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়। ঘটনার প্রতিবাদে অভিযুক্ত সন্ন্যাসীর গ্রেফতারের দাবি তোলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একজন সন্ন্যাসী হয়ে আশ্রমের ভিতরে এমন আচরণ করার অভিযোগ কেন উঠল, সেই প্রশ্ন তুলে রবিবার আশ্রমের সামনে বিক্ষোভও দেখান তাঁরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত সন্ন্যাসীকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
সন্ন্যাসীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
জানা গিয়েছে, কোচবিহারের সিতাইয়ের সালটিবাড়ি এলাকায় স্বামীজির নামে একটি মুখ আশ্রম রয়েছে। ওই আশ্রমের দায়িত্বে রয়েছেন স্বামী জ্ঞানানন্দ, যিনি সেখানকার মহারাজ হিসেবে পরিচিত। আশ্রমে আরও বেশ কয়েকজন সন্ন্যাসীও থাকেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুস্থ পরিবারের শিশুদের আশ্রমে রেখে তাঁদের থাকা-খাওয়ার পাশাপাশি পড়াশোনার ব্যবস্থাও করা হয়। আর আশ্রমের বিভিন্ন কাজে মহারাজকে সহযোগিতা করার জন্য সেখানে এক তরুণীকেও রাখা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ওই তরুণীর সঙ্গে আশ্রমের ভিতরে মহারাজের ঘনিষ্ঠতার ঘটনা নাকি একাধিকবার ঘটেছে। সম্প্রতি আশ্রমের ভিতরে মহারাজ ও ওই তরুণীর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি ভিডিও কয়েকজন ক্যামেরাবন্দি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন বলে দাবি করা হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। অভিযুক্ত মহারাজকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে রবিবার আশ্রমের সামনে বিক্ষোভও দেখান তাঁরা। ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা অবশ্য যাচাই করিনি আমরা।
জানা যাচ্ছে, শেষ পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। তাঁদের দাবি মেনেই অভিযুক্ত ওই মহারাজকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে ওই মহারাজের। সূত্রের খবর, কোচবিহারের সিতাইয়ের ওই আশ্রম তৈরি হয়েছিল আজ থেকে প্রায় 10 বছর আগে।
