ছোটবেলায় পকেট খরচের টাকা জমিয়ে প্রিয় অভিনেতা দেবের ছবি কিনে ডায়েরি সাজানো, পড়াশোনা বাদ দিয়ে দেবের গান লিখতে বসে মায়ের বকুনি খাওয়া— এমনই ছিল এক ভক্তের গভীর ভালোবাসার গল্প। সেই ছোটবেলার পাগলামি আর ভালোবাসাই একদিন তাঁকে পৌঁছে দেয় তাঁর স্বপ্নের মানুষের সামনে, স্বপ্নের মঞ্চে। শিলিগুড়ির বাসিন্দা জয়িতা পাল এবার জি বাংলার জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘দাদাগিরি আনলিমিটেড’ সিজন ১১-এর দ্বিতীয় সপ্তাহের প্রথম পর্বে বিজয়ীর মুকুট জিতেছেন। শুধু ট্রফি জয় নয়, তাঁর এই সাফল্য গর্বিত করেছে গোটা শিলিগুড়ি ও দার্জিলিং জেলাকে। প্রিয় শহরের এক বাসিন্দার এমন সাফল্যে ইতিমধ্যেই উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাজুড়ে।
প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নজর কেড়েছিলেন জয়িতা পাল। বিশেষ করে গুগলি রাউন্ডে নিজের প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলেও তিনি হাল ছাড়েননি। বরং পরপর তিনটি প্রতিপক্ষের প্রশ্নে সফল চ্যালেঞ্জ করে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন। তাঁর এই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনই প্রতিযোগিতায় তাঁকে এগিয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছে দেয়।
শেষ রাউন্ডে পরপর চারটি প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলেও জয়িতার স্কোর শূন্যতেই আটকে ছিল। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের প্রতিযোগী মাইনাস ২০-তে নেমে যাওয়ায় অনুষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী জয়িতাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। জয়ের পর তিনি পান ‘দাদাগিরি আনলিমিটেড’ সিজন ১১-এর ট্রফি, নগদ পাঁচ হাজার টাকা এবং আরও বেশ কিছু সম্মাননা।
জয়িতার কাছে এই জয় শুধুমাত্র একটি রিয়্যালিটি শোয়ের সাফল্য নয়, বরং ছোটবেলার একটি স্বপ্ন পূরণের মুহূর্ত। মঞ্চেও তাঁর পরিচয় তুলে ধরা হয় এক বিশেষভাবে। দেব অভিনীত জনপ্রিয় সিনেমা ‘টনিক’-এ যেমন একজন ট্যুর প্ল্যানারের চরিত্র দেখানো হয়েছিল, তেমনই বাস্তব জীবনেও জয়িতা গত আট বছর ধরে পেশায় একজন সফল ট্যুর প্ল্যানার। এই মিলের কারণেই তাঁকে মঞ্চে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় ‘রিয়েল লাইফ টনিক’ নামে।
ছোটবেলা থেকেই অভিনেতা দেবের একনিষ্ঠ ভক্ত জয়িতা পাল। তাঁর ভালোবাসার প্রমাণ হিসেবে বাড়িতে রয়েছে দেবকে নিয়ে তৈরি করা ছয়টি বিশেষ ডায়েরি। বছরের পর বছর ধরে সেই ডায়েরিগুলিতে তিনি যত্ন করে জমিয়ে রেখেছেন দেবের ছবি, সংবাদপত্রের কাটিং এবং নানা স্মৃতি। ২০১১ সালে তৈরি একটি ডায়েরি তিনি সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন শুটিং সেটে, যেখানে প্রিয় অভিনেতার কাছ থেকে স্বাক্ষরও নেন। শুধু তাই নয়, রথযাত্রা উপলক্ষে জগন্নাথ দেবের প্রতিকৃতি এবং দেবের বিভিন্ন সিনেমার ক্ষুদ্র প্রতিরূপ দিয়ে সাজানো একটি বিশেষ উপহারও অভিনেতার হাতে তুলে দেন তিনি। মঞ্চে প্রিয় তারকার সঙ্গে নাচের সুযোগও পান জয়িতা।
জয়িতা পাল জানান, “আমি দেবকে শুধু একজন অভিনেতা, প্রযোজক বা রাজনীতিবিদ হিসেবে ভালোবাসি না, আমি মানুষ দেবকে ভালোবাসি। ছোটবেলা থেকেই তাঁকে কাছ থেকে দেখার স্বপ্ন ছিল। আজ সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাঁর সঙ্গে খেলেছি, কথা বলেছি, নেচেছি এবং নিজের হাতে তৈরি ডায়েরিতে তাঁর স্বাক্ষরও নিয়েছি। এর থেকে বড় পাওয়া আমার জীবনে আর কিছু হতে পারে না। এই বিশেষ মুহূর্ত আমি সারাজীবন মনে রাখব।”
জয়িতার স্বামী সুদীপন গুহ জানান, “আমার স্ত্রী শুধু দেবের ভক্ত নয়, বলা ভালো তিনি একেবারে দেব-পাগল। মাঝে মাঝে মজা করে বলি, ওর প্রথম ভালোবাসা দেব, তারপর আমি। অডিশন থেকে শুরু করে প্রতিযোগিতার প্রতিটি ধাপে আমি ওর পাশে ছিলাম। যদিও কাজের ব্যস্ততার কারণে মূল শুটিংয়ের দিন উপস্থিত থাকতে পারিনি। তবে দেবদা মঞ্চে দাঁড়িয়ে বারবার আমার নাম নিয়েছেন, এমনকি আমাকে ফ্লাইং কিসও দিয়েছেন। সেই মুহূর্তটাও আমার কাছে ভীষণ আনন্দের এবং সারাজীবন মনে রাখার মতো।”
