ধর্মতলায় বিক্ষোভে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি

-

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলনের সমর্থনে শুক্রবার সন্ধ্যায় কলকাতার ধর্মতলায় বিক্ষোভকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভ চলাকালীন আন্দোলনকারীদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের বচসা ও ধস্তাধস্তির ঘটনায় কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। তবে পুলিশের দাবি, মিছিলে ‘বাইরের কেউ ঢুকে পড়েছে’— এমন সন্দেহকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের মধ্যেই প্রথমে বিবাদ শুরু হয়, যা পরে হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছায়। সেই ঘটনার জেরেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীদের একাংশের বিরুদ্ধে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, জুতো ও বোতল ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। এর পর আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের তরফে দ্রুত র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‌্যাফ) মোতায়েন করা হয়। সন্ধ্যা প্রায় ৬টা নাগাদ ধর্মতলার ব্যস্ত রাস্তাগুলিতে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং ডোরিনা ক্রসিংয়ের সামনে বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তাঁদের রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের দিকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়।

- Advertisement -

শুক্রবার দুপুর থেকেই নিট-সহ বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বাম ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা মিছিলে বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া ও সমর্থক অংশ নেন। মিছিল এগোতেই পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যদিও এই ঘটনায় পুলিশ বা বিক্ষোভকারীদের কেউ আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত কোনও তথ্য সামনে আসেনি। পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীদের নিজেদের মধ্যেই প্রথমে গোলমাল শুরু হয় এবং তা সামাল দিতেই পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। ঘটনাস্থলে পুলিশকে লাঠি হাতে বিক্ষোভকারীদের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়, যার জেরে ধর্মতলা চত্বরে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনের প্রভাব দিল্লির বাইরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও ছড়িয়ে পড়ছে। ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকেরা বিহারের রাজধানী পাটনাসহ একাধিক শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজনের দাবি করেছেন। এদিকে কলকাতায় কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে প্রথমে ১৯ জুলাই কলকাতা পুলিশের কাছে একটি ইমেল পাঠানো হলেও তা অনুমোদন পায়নি বলে জানা যায়। পরে ফের ২২ জুলাই আরেকটি ইমেল করে ২৪ জুলাই কলেজ স্ট্রিট থেকে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ পর্যন্ত মিছিল করার অনুমতি চাওয়া হয় বলে খবর।

- Advertisement -

শুক্রবারের মিছিলে শুরু থেকেই এসএফআই, এআইডিএসও এবং আইসা-সহ একাধিক বাম ছাত্র সংগঠনের পতাকা দেখা যায়। মিছিল ডোরিনা ক্রসিংয়ে পৌঁছতেই হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষোভকে ঘিরে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এ সময় মিছিলে ‘বহিরাগত’ ঢুকে পড়ার অভিযোগও ওঠে। তবে পুলিশের দাবি, তারা কোনও লাঠিচার্জ করেনি; বিবাদমান দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই লাঠি হাতে এগিয়ে যেতে হয়েছে। বিকেল প্রায় ৪টা থেকে ধর্মতলা চত্বরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ ছিল। পরে সন্ধ্যা পৌনে ৭টা নাগাদ রাস্তা খুলে দেওয়া হলেও, স্বাভাবিক যান চলাচল ফিরতে কিছুটা সময় লাগে।

🔔 সর্বশেষ খবর সবার আগে পেতে যুক্ত হন

ব্রেকিং নিউজ, চাকরির খবর, টেক আপডেট ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আমাদের WhatsAppTelegram চ্যানেলে এখনই যুক্ত হন।

Breaking News