NEET পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দিল্লির জন্তর-মন্তরে CJP-র অবস্থান বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে রাহুল গান্ধির নেতৃত্বে কংগ্রেসও কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। বিরোধী শিবিরের মূল দাবি, NEET বিতর্কের দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তবে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্র সরকার বা বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁর পদত্যাগের কোনও ইঙ্গিত মেলেনি।
এদিকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে একচুলও সরে আসতে রাজি নয় CJP। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এই আবহে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ঘিরে সাধারণ মানুষের কৌতূহলও বেড়েছে। তাঁর রাজনৈতিক জীবন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ব্যক্তিগত পরিচয় থেকে শুরু করে আয়-সম্পত্তি—সবকিছু নিয়েই বাড়ছে আলোচনা। ছাত্র রাজনীতি থেকে রাজনৈতিক জীবনের সূচনা করা ধর্মেন্দ্র প্রধান আজ দেশের অন্যতম পরিচিত রাজনৈতিক নেতা, এবং প্রকাশ্য নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী তিনি কয়েক কোটি টাকার সম্পদের মালিক।
হলফনামা অনুযায়ী, ধর্মেন্দ্র প্রধানের মোট ঋণ ও দায়ের পরিমাণ ২.৩০ কোটি টাকা ।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ঘোষিত মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৬.৯২ কোটি টাকা। একই হলফনামায় ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের আয়ের তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, বার্ষিক আয়ের নিরিখে তাঁর স্ত্রীর আয় তাঁর চেয়ে অনেক বেশি। ধর্মেন্দ্র প্রধানের বার্ষিক আয় প্রায় ১২.৭৫ লক্ষ টাকা, যেখানে তাঁর স্ত্রীর বার্ষিক আয় ৪৯.৯২ লক্ষ টাকা। এছাড়া হলফনামা অনুযায়ী, তাঁদের নামে ঋণ যেমন রয়েছে, তেমনি আত্মীয়দেরও আর্থিক ঋণ দেওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, ধর্মেন্দ্র প্রধানের মোট ঋণ ও অন্যান্য আর্থিক দায়ের পরিমাণ প্রায় ২.৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে তিনি পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (PNB) এবং IDBI Bank থেকে মোট ৩১.৩৮ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছেন। তবে শুধু ঋণ নেওয়াই নয়, ব্যক্তিগতভাবে আত্মীয়দেরও আর্থিক সহায়তা করেছেন তিনি। হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে, তিনি তাঁর স্ত্রীকে ১০ লক্ষ টাকা, বাবাকে ৫ লক্ষ টাকা এবং আরও কয়েকজন আত্মীয়কে ব্যক্তিগত ঋণ দিয়েছেন। এই তথ্যগুলি তাঁর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় জমা দেওয়া হলফনামায় প্রকাশ করা হয়েছে।
মিউচুয়াল ফান্ড ও FD-তেও বড় বিনিয়োগ
নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, ধর্মেন্দ্র প্রধান ও তাঁর পরিবারের বিনিয়োগের বড় অংশই রয়েছে নিরাপদ আর্থিক প্রকল্পে। তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ফিক্সড ডিপোজিট (FD) এবং পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (PPF)-এ মোট জমা রয়েছে প্রায় ২.৪৭ কোটি টাকা। এছাড়া মিউচুয়াল ফান্ডে তাঁদের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৮০.৪০ লক্ষ টাকা। LIC ও অন্যান্য বিমা পলিসিতে বিনিয়োগের মূল্যও উল্লেখযোগ্য, যার মোট পরিমাণ প্রায় ৬৭.৭২ লক্ষ টাকা। এই তথ্যগুলি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় জমা দেওয়া হলফনামা থেকে জানা গিয়েছে।
ওড়িশা ও দিল্লি-এনসিআরে সম্পত্তি
স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রেও ধর্মেন্দ্র প্রধানের সম্পদের পরিধি বেশ উল্লেখযোগ্য। ২০২৪ সালের নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, ওড়িশায় তাঁর নামে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা মূল্যের কৃষিজমি রয়েছে। এছাড়া ২০.৫০ লক্ষ টাকা মূল্যের অকৃষি জমিও তাঁর সম্পত্তির তালিকায় রয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর নামে গাজিয়াবাদ ও ভুবনেশ্বরে প্রায় ১.৯৮ কোটি টাকা মূল্যের আবাসিক বাড়িও রয়েছে।
সোনা-রুপো ও গাড়ির সংগ্রহ
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় জমা দেওয়া নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, ধর্মেন্দ্র প্রধানের কাছে প্রায় ২০০ গ্রাম সোনা এবং ২.৫ কেজি রুপো রয়েছে। এছাড়া তাঁর নামে একটি ২০১১ মডেলের Honda City গাড়িও রয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রীর সম্পদের তালিকায় রয়েছে ৫০০ গ্রাম সোনা, ১০ কেজি রুপো এবং কয়েকটি বাণিজ্যিক (কমার্শিয়াল) যানবাহন। এই সমস্ত তথ্য তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় প্রকাশিত সম্পদের বিবরণের ভিত্তিতেই সামনে এসেছে।
