অবশেষে কি ছাত্র-যুবদের লাগাতার আন্দোলনের চাপে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলেন? সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর নামে একটি পদত্যাগপত্র দ্রুত ভাইরাল হয়েছে, যা ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থনে যন্তরমন্তরে আন্দোলন চলছে, যেখানে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগই ছিল আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি। এদিকে সংসদ অভিযানের ডাককে কেন্দ্র করে ছাত্রদের উপর পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুক হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও এখনও অনশন ভাঙেননি, আর আজ তাঁর অনশনের ২৬তম দিন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের কথিত পদত্যাগপত্র ভাইরাল হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী?
নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই ছাত্রদের এই আন্দোলন শুরু হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। যদিও এই দাবির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর নামে একটি কথিত পদত্যাগপত্র ভাইরাল হয়েছে। সেই চিঠিতে রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে, “আমি শ্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এত দ্বারা ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে অবিলম্বে পদত্যাগপত্র জমা দিচ্ছি। দেশের সেবা করা এবং ভারতের শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নে অবদান রাখা এটি এক পরম সৌভাগ্যের বিষয়। আমার কার্যকালে তাঁদের সমর্থন এবং সহযোগিতার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রী পরিষদের সমস্ত সহকর্মীবৃন্দকে কৃতজ্ঞতা জানাই।” তবে এই চিঠির সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
আসলে এই ভাইরাল চিঠিটি প্রথম দেখাতেই ভুয়ো বলে মনে হচ্ছে। কারণ, ওই চিঠিটি ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে সম্বোধন করেই লেখা, এবং তার একটি কপি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে পাঠানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, যেহেতু ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার ক্যাবিনেট মন্ত্রী, তাই তিনি পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিলে তাঁর পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে না লিখে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছেই লিখতে হবে। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, শিক্ষামন্ত্রীর তরফ থেকে এ বিষয়ে কোনও রকম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

অন্যদিকে, অনশনরত জলবায়ু কর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং তাঁর সঙ্গে কথা বলে আশ্বাস দিয়েছেন যে আন্দোলনকারীদের দুটি প্রধান দাবি সরকার বিবেচনা করছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আত্মহত্যা করা ছাত্রছাত্রীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও আলোচনায় আসবে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। এদিকে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করা উচিত। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় কেন্দ্র সরকারকে জবাব দিতে হবে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। তবে সরকার এখনও এসব দাবি বা বক্তব্যের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নিশ্চিত ঘোষণা দেয়নি।
