জানারুল খান, কলকাতাঃ দিনহাটা হাসপাতালে এক ব্যক্তির দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান প্রসবকে ঘিরে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, ওই ব্যক্তি হাসপাতালে আসার পর তাঁকে প্রথম স্ত্রী হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এরপর দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ওই যুবককে মারধর করা হয় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক শোরগোল ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার ভিডিওও দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাইরাল হয়ে যায়।
ঠিক কী ঘটেছিল?
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, সম্প্রতি কোচবিহারের দিনহাটা হাসপাতালে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে ব্যাপক অশান্তি শুরু হয়েছিল। ভিডিও মারফৎ জানা যায়, আশরাফুল আলি নামের এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীর সন্তান প্রসবের জন্য হাসপাতালে নিয়ে এসেছিল, ভিতরে চলছিল অপারেশন সেই সময় স্বামীর খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছয় আশরাফুলের প্রথম স্ত্রী ও তাঁর পরিবার। তারপরেই শুরু হয় অশান্তি, স্বামীর শার্টের কলার টানতে টানতে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে আসেন প্রথম স্ত্রী, কিল, চড় ও ঘুষিও মারেন, ছিঁড়ে দেওয়া হয় জামা। যদিও চুপ থাকেননি আশরাফুল, সেও পাল্টা প্রতিবাদ করে।
থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে
প্রথম স্ত্রীর অভিযোগ, তাঁকে কিছু না জানিয়েই আশরাফুল দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তাঁর দাবি, কয়েক মাস আগে আচমকাই আশরাফুল বাড়ি থেকে বেরিয়ে ইসলামপুর চলে যান এবং সেখানেই দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। এরপর আগের পরিবারের সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ রাখেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই ঘটনায় প্রথম স্ত্রী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অন্যদিকে, আশরাফুলের দাবি, তিনিও নাকি প্রথম স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছিলেন, যদিও তার সমর্থনে কোনও নথি বা প্রমাণ দেখাতে পারেননি। দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনার জেরে ওই দিন দিনহাটা হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই ফরিদাবাদে পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে খুনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, এক মহিলা তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুন করার পর বাড়ির কাছেই মাটি খুঁড়ে দেহ পুঁতে দেন। নিহত ব্যক্তির নাম শ্যামবীর। ঘটনার তদন্তে নেমে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে ক্রাইম ব্রাঞ্চের ডিএলএফ ইউনিট।
