ডাইনোসরদের যুগের এক অবিশ্বাস্য আবিষ্কার সামনে এসেছে। আজ থেকে প্রায় ১৪৫ মিলিয়ন থেকে ৬৬ মিলিয়ন বছর আগে, অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি থেকে সাড়ে ৬ কোটি বছর আগে, পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্ব ছিল না। সেই সময় পৃথিবী শাসন করত বিশালাকার ডাইনোসররা। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এমন একটি প্রাচীন পথের সন্ধান পেয়েছেন, যেটি ডাইনোসরদের নিয়মিত চলাচলের রাস্তা ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। গবেষকদের দাবি, এখনও পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আবিষ্কৃত ডাইনোসরের চলাচলের পথগুলোর মধ্যে এটিই সম্ভবত সবচেয়ে ব্যস্ত ‘ডাইনোসর হাইওয়ে’, যেখানে বিপুল সংখ্যক ডাইনোসরের পদচিহ্ন একসঙ্গে সংরক্ষিত রয়েছে।
গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কারটি আরও বিস্ময়কর কারণ একই স্তরের শিলার ওপর প্রায় ১৬,৫০০টি ডাইনোসরের পায়ের ছাপ সংরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পদচিহ্ন বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, এগুলি মূলত দুই পায়ে চলা (বাইপেডাল) ডাইনোসরের, যাদের প্রতিটি পায়ে তিনটি করে আঙুল ছিল। একই পথে এত বিপুল সংখ্যক ছাপ পাওয়ায় বিজ্ঞানীদের ধারণা, ডাইনোসররা দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত এই পথ ব্যবহার করত। ক্রেটেসিয়াস যুগের এই প্রাচীন ‘ডাইনোসর হাইওয়ে’র সন্ধান মিলেছে দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়ার তোরোতোরো জাতীয় উদ্যানের কারেরাস পাম্পা এলাকায়। শুধু পায়ের ছাপই নয়, ওই স্থানে ডাইনোসরদের চলাফেরা ও আচরণের সঙ্গে সম্পর্কিত আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জীবাশ্মচিহ্নও খুঁজে পেয়েছেন গবেষকেরা।

শুধু ডাইনোসরের পায়ের ছাপই নয়, গবেষকেরা এখানে লেজ টেনে যাওয়ার দাগ, দ্রুত দৌড়ানোর চিহ্ন এবং চলার সময় দিক পরিবর্তনের জীবাশ্মচিহ্নও খুঁজে পেয়েছেন। এই সব নিদর্শন বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ডাইনোসরদের চলাফেরা, গতি এবং আচরণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পেরেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব চিহ্ন থেকে বোঝা যায় যে, এই অঞ্চলটি ডাইনোসরদের নিয়মিত বিচরণক্ষেত্র ছিল। উল্লেখ্য, বলিভিয়ার তোরোতোরো জাতীয় উদ্যান বহু বছর ধরেই ডাইনোসর-সংক্রান্ত জীবাশ্মের জন্য পরিচিত। এর আগেও এখান থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জীবাশ্ম ও পদচিহ্ন উদ্ধার হয়েছে।
