বর্ষায় টকদই খেলে কি ঠান্ডা লাগে? সর্দি-কাশির ভয়ে টকদই ছাড়ছেন? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

-

বর্ষাকালে দুপুরের খাবারের শেষে এক বাটি টাটকা দই বা এক গ্লাস ঘোল খাওয়ার অভ্যাস বহু ভারতীয় পরিবারের দীর্ঘদিনের রীতি। এটি শুধু স্বাদের জন্য নয়, স্বাস্থ্যের দিক থেকেও বেশ উপকারী। বিশেষজ্ঞদের মতে, দইয়ে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা প্রোবায়োটিক অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, ফলে হজমশক্তি উন্নত হয় এবং পরিপাকতন্ত্র সুস্থ থাকে। পাশাপাশি দইয়ে থাকা ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান শরীরের সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বর্ষাকালে কেন দুপুরে দই বা ঘোল খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা?

দই ও ঘোল প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিকের অন্যতম সেরা উৎস। এতে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের অণুজীবের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা সুস্থ পরিপাকতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকলে খাবার সহজে হজম হয়, পুষ্টি উপাদান শোষণও বাড়ে এবং ক্ষতিকর জীবাণুর সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে দই বা ঘোল খাওয়ার অভ্যাস বদহজম, গ্যাস, পেট ফাঁপা ও অন্যান্য হজমজনিত সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে সাহায্য করতে পারে।

- Advertisement -

নিয়মিত দই খেলে হজমের কী কী উপকার পাওয়া যায়?

সুস্থ অন্ত্র শুধু খাবার হজমের কাজই করে না, বরং খাদ্য থেকে ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সঠিকভাবে শোষণ করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই দুপুরের খাবারের সঙ্গে নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে দই বা ঘোল খেলে হজম প্রক্রিয়া আরও স্বাভাবিক থাকে। এর ফলে পেট ফাঁপা, গ্যাস, অম্বল ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সাধারণ হজমজনিত সমস্যার ঝুঁকি কমতে পারে। পাশাপাশি দই ও ঘোল অন্ত্রকে ঠান্ডা রাখতে এবং পরিপাকতন্ত্রকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে সহায়তা করে।

দই ও ঘোলের প্রোবায়োটিক কীভাবে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি বড় অংশ অন্ত্রের স্বাস্থ্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। তাই অন্ত্র সুস্থ থাকলে সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরও আরও ভালোভাবে লড়াই করতে পারে। দইয়ের মতো প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে খেলে অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখতে সহায়তা করে। বিশেষ করে বর্ষাকালে ভাইরাল ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়, তাই এই সময় খাদ্যতালিকায় টাটকা দই বা ঘোল রাখলে তা শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে উপকারী হতে পারে।

- Advertisement -

বর্ষায় টকদই খেলে কি ঠান্ডা লাগে?

বর্ষাকালে বা গলা ব্যথা হলে অনেকেই সর্দি-কাশির ভয়ে দই খাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাজা ও স্বাস্থ্যকরভাবে সংরক্ষিত দই খাওয়ার ফলে সর্দি-কাশি হয় না। আসলে সাধারণ সর্দির মূল কারণ বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস, দই নয়। তবে কারও যদি গলা ব্যথা বা ঠান্ডাজনিত অস্বস্তি থাকে, সেক্ষেত্রে ফ্রিজ থেকে সদ্য বের করা খুব ঠান্ডা দই খেলে অস্বস্তি বাড়তে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক তাপমাত্রার টাটকা দই খাওয়াই বেশি আরামদায়ক এবং নিরাপদ বলে চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন।

- Advertisement -

খুব ঠান্ডা দই খাওয়ার ক্ষেত্রে কী কী সতর্কতা মানবেন?

তবে খুব ঠান্ডা বা দীর্ঘক্ষণ রাখা বাসি দই খেলে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে গলায় অস্বস্তি, খুসখুসে ভাব বা জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ফ্রিজ থেকে বের করেই দই না খেয়ে কিছুক্ষণ স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে তারপর খাওয়া ভালো। টাটকা ও সঠিকভাবে সংরক্ষিত দই অধিকাংশ সুস্থ মানুষের জন্য নিরাপদ, সহজপাচ্য এবং পুষ্টিকর। বিশেষ করে বর্ষাকালে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে তাজা দই বা ঘোল খাওয়া হজমশক্তি ভালো রাখতে এবং শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

দই ও ঘোলে কোন কোন পুষ্টিগুণ রয়েছে?

তাজা দই ও ঘোল শরীরকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি-১২ এবং উপকারী প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া সরবরাহ করে, যা হাড়ের স্বাস্থ্য, হজমশক্তি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো রাখতে সহায়তা করে। তাই চিকিৎসকের বিশেষ নিষেধাজ্ঞা না থাকলে বা ডেয়ারি পণ্যে অ্যালার্জি ও ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা না থাকলে শুধুমাত্র সর্দি-কাশির অযৌক্তিক ভয়ে খাদ্যতালিকা থেকে দই বাদ দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। বরং পরিমিত পরিমাণে টাটকা, সঠিকভাবে সংরক্ষিত এবং স্বাভাবিক তাপমাত্রার দই বা ঘোল খাওয়ার অভ্যাস বর্ষাকালেও শরীরকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে সহায়ক হতে পারে।

🔔 সর্বশেষ খবর সবার আগে পেতে যুক্ত হন

ব্রেকিং নিউজ, চাকরির খবর, টেক আপডেট ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আমাদের WhatsAppTelegram চ্যানেলে এখনই যুক্ত হন।

Breaking News