ইথানল নীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক, ‘ই-২০ জনতা পার্টি’কে ঘিরে সরব বিরোধীরা

-

কেন্দ্রের ইথানল মিশ্রিত পেট্রল (E20 Fuel) নীতিকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র পর এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় আত্মপ্রকাশ করেছে ‘ই-২০ জনতা পার্টি’। এর মধ্যেই আম আদমি পার্টির (Aam Aadmi Party) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal) ঘোষণা করেছেন, ই-২০ নীতির বিরুদ্ধে আগামী ১ আগস্ট থেকে দেশজুড়ে আন্দোলনে নামবে তাঁর দল। তাঁর দাবি, এই নীতির ফলে সাধারণ গাড়িচালকদের বাড়তি খরচের মুখে পড়তে হতে পারে। যানবাহনের ইঞ্জিনের সম্ভাব্য ক্ষতি, মাইলেজ কমে যাওয়ার আশঙ্কা এবং ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির কার্যকারিতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

কেন্দ্রের E20 Fuel নীতি ঘিরে কেন নতুন বিতর্ক?

সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)-এর পদত্যাগের দাবিকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনায় উঠে এসেছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে ‘ই-২০ জনতা পার্টি’। কেন্দ্রের ইথানল মিশ্রিত পেট্রল (E20 Fuel) নীতির বিরোধিতাকে সামনে রেখেই এই নতুন সংগঠনের উত্থান হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের উপস্থিতি নজর কেড়েছে। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, সংগঠনটির এক্স (X) হ্যান্ডেলে প্রায় ৫০ হাজার অনুসরণকারী রয়েছে এবং ইনস্টাগ্রামে সেই সংখ্যা ২ লক্ষ ৫০ হাজারেরও বেশি।

- Advertisement -

ই-২০ বা ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল (E20 Fuel) ব্যবহারের ফলে গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে এবং জ্বালানির মাইলেজ কমে যাচ্ছে— এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহল থেকে উঠে আসছে। যদিও এই দাবি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে এবং গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলিও নির্দিষ্ট শর্তে E20-সামঞ্জস্যপূর্ণ ইঞ্জিন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকে। এদিকে, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতীন গড়কড়ি (Nitin Gadkari)-র পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ইথানল ব্যবসা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

নীতীন গড়কড়িকে ঘিরে কেন উঠছে নতুন প্রশ্ন?

সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে আম আদমি পার্টির (Aam Aadmi Party) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal) কেন্দ্রের ইথানল মিশ্রিত পেট্রল (E20 Fuel) নীতি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। তাঁর অভিযোগ, এই নীতির ফলে সাধারণ গাড়িচালকদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বহু যানবাহনের ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে এবং জ্বালানির মাইলেজ কমে যাওয়ায় খরচও বেড়ে যাচ্ছে। তাই পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগে কেন্দ্রের উচিত বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা।

- Advertisement -

১ আগস্ট দিল্লিতে বড় আন্দোলনের ঘোষণা AAP-এর

শুধু দাবি জানিয়েই থেমে থাকেননি কেজরিওয়াল। তিনি ঘোষণা করেছেন, আগামী ১ আগস্ট দিল্লির টাউন হলে (Delhi Town Hall) ই-২০ নীতির বিরুদ্ধে একটি বড় কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। তাঁর দাবি, এই কর্মসূচিতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেবেন। পাশাপাশি দিল্লির বাইরে থাকা সমর্থকদেরও অনলাইনের মাধ্যমে এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -

সব মিলিয়ে ইথানল মিশ্রিত পেট্রল নীতিকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন সংগঠনের উত্থান এবং আপের ঘোষিত আন্দোলন আগামী দিনে এই বিতর্ককে আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

🔔 সর্বশেষ খবর সবার আগে পেতে যুক্ত হন

ব্রেকিং নিউজ, চাকরির খবর, টেক আপডেট ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আমাদের WhatsAppTelegram চ্যানেলে এখনই যুক্ত হন।

Breaking News