পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ হল চাঁদ। তবে বিজ্ঞানীদের কাছে বহুদিন ধরেই পরিচিত একটি ছোট গ্রহাণুকে ‘মিনি মুন’ বা পৃথিবীর দ্বিতীয় চাঁদ নামে ডাকা হয়। সম্প্রতি প্রথমবার বিজ্ঞানীরা এই মিনি মুনকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেয়েছেন, ফলে এর আকৃতি ও গঠন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে পৃথিবীর সত্যিই দ্বিতীয় কোনও চাঁদ রয়েছে। এটি আসলে একটি ছোট গ্রহাণু, যা পৃথিবীর স্থায়ী উপগ্রহ নয়। এটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে এবং নির্দিষ্ট সময়ে পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসায় একে ‘মিনি মুন’ বলা হয়।
পৃথিবীর তথাকথিত ‘মিনি মুন’ আসলে কামোওয়ালেওয়া নামে পরিচিত একটি ছোট গ্রহাণু। এটি পৃথিবীর স্থায়ী উপগ্রহ নয়, তবে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে একটি বিশেষ ধরনের কক্ষপথে থেকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। প্রায় ১০০ মিটার আকারের এই গ্রহাণুর উপরিভাগ অত্যন্ত এবড়োখেবড়ো এবং পাথুরে। সম্প্রতি চিনের তিয়ানওয়েন-২ মহাকাশযান এর খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় বিজ্ঞানীরা প্রথমবার এত কাছ থেকে এটিকে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পান। একসময় মহাকাশযানটি এই গ্রহাণুর মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরত্বে পৌঁছে যায়, যার ফলে এর পৃষ্ঠের বিস্তারিত ছবি ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
চিনের তিয়ানওয়েন-২ মহাকাশযান এই গ্রহাণুর খুব কাছ থেকে একাধিক ছবি তুলেছে, যা বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রথম এত কাছ থেকে কামোওয়ালেওয়া-কে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ মিলেছে, ফলে এর গঠন, পৃষ্ঠের বৈশিষ্ট্য এবং উৎপত্তি নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণা করা সম্ভব হবে। বিজ্ঞানীরা এই মহাজাগতিক বস্তুটিকে ‘কোয়াজ়ি স্যাটেলাইট’ বা আধা-উপগ্রহ বলে থাকেন। কারণ এটি পৃথিবীকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করে না, তাই এটি পৃথিবীর প্রকৃত উপগ্রহ নয়। তবে পৃথিবীর সঙ্গে বিশেষ ধরনের কক্ষপথে থেকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করায় একে আধা-উপগ্রহ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। এই বিরল পর্যবেক্ষণের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্বের মহাকাশপ্রেমী ও বিজ্ঞানমহলে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।
