গরমকালে রোদের তেজ এতটাই বেশি থাকে যে সামান্য সময় বাইরে থাকলেই ত্বকে সান ট্যান পড়তে শুরু করে। যতই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা হোক না কেন, মুখ, হাত কিংবা পায়ের স্বাভাবিক রং অনেক সময় ধীরে ধীরে কালচে হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও স্থিতিস্থাপকতাও নষ্ট হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ত্বকে বলিরেখা ও অকাল বার্ধক্যের সমস্যাও বাড়িয়ে দেয়। যদিও বাজারে সান ট্যান দূর করার জন্য নানা ধরনের স্কিন কেয়ার পণ্য পাওয়া যায়, তবে সবকটি যে সমানভাবে কার্যকর হবে এমন নয়। তাই অনেকেই এখন ভরসা রাখছেন ঘরোয়া উপায়ের উপর। রান্নাঘরে থাকা সহজ কিছু উপকরণ দিয়েই তৈরি করা যায় এমন কয়েকটি ফেস প্যাক, যা নিয়মিত ব্যবহার করলে ট্যান কমাতে এবং ত্বকের হারানো জেল্লা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে। তাহলে চলুন সম্পূর্ণটা জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।
সান ট্যান দূর করার সহজ উপায়
লেবু ও মধুর ফেস প্যাক
সান ট্যান দূর করতে লেবু খুবই কার্যকর একটি প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে পরিচিত। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি ত্বকের কালচে ভাব কমাতে সাহায্য করে এবং অসমান স্কিন টোন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করতে পারে। বিশেষ করে রোদে পোড়া ত্বকের যত্নে অনেকেই লেবুর ব্যবহার করে থাকেন। এর সঙ্গে যদি এক চামচ মধু মিশিয়ে মুখ বা আক্রান্ত অংশে হালকা হাতে কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করা যায়, তাহলে ত্বকের উজ্জ্বলতা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। পাশাপাশি মধু ত্বককে ভেতর থেকে ময়েশ্চারাইজ রাখতে সাহায্য করে, ফলে ত্বক শুষ্ক দেখায় না এবং স্বাভাবিক জেল্লাও ফিরে আসে। তবে যাদের ত্বক খুব সংবেদনশীল, তারা ব্যবহার করার আগে ছোট অংশে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়াই ভালো।
বেসন ও দুধের ফেস প্যাক
বেসনকে অনেকেই প্রাকৃতিক প্রসাধনী হিসেবে ব্যবহার করেন, কারণ এটি ত্বকের ময়লা ও অতিরিক্ত তেল পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। সান ট্যান দূর করতেও বেসনের ফেস প্যাক বেশ জনপ্রিয়। এর জন্য একটি ছোট বাটিতে পরিমাণ মতো বেসন নিয়ে তার সঙ্গে সামান্য কাঁচা হলুদ বাটা মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। চাইলে মিশ্রণটিকে একটু তরল করার জন্য অল্প দুধও ব্যবহার করা যেতে পারে। এরপর সেই প্যাকটি মুখ বা ট্যান পড়া অংশে ভালোভাবে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে নিন। নিয়মিত সপ্তাহে দু’বার ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে সান ট্যান কমতে শুরু করবে এবং ত্বকও আরও পরিষ্কার ও উজ্জ্বল দেখাবে।
অ্যালোভেরা ও শসার প্যাক
সান ট্যান কমানোর জন্য অ্যালোভেরা ও শসার ফেস প্যাকও বেশ কার্যকর বলে মনে করা হয়। অ্যালোভেরা ত্বককে ঠান্ডা ও আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে, আর শসা ত্বকে সতেজ অনুভূতি এনে দেয়। এই প্যাকটি তৈরি করতে এক টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে গ্রেট করা শসা ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে পারেন। চাইলে এর মধ্যে সামান্য দইও যোগ করা যেতে পারে, যা ত্বককে আরও নরম রাখতে সাহায্য করে। এরপর মিশ্রণটি মুখ ও ঘাড়ে লাগিয়ে ১৫ মিনিটের মতো রেখে দিন। শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে নিলেই ত্বক অনেক বেশি সতেজ ও উজ্জ্বল অনুভূত হবে।
FAQs: সান ট্যান দূর করার সহজ উপায়, রান্নাঘরের জিনিসেই মিলবে উজ্জ্বল ত্বক
সান ট্যান কী কারণে হয়?
অতিরিক্ত সময় রোদে থাকলে সূর্যের UV রশ্মির প্রভাবে ত্বকে মেলানিন বেড়ে যায়, যার ফলে সান ট্যান হয়।
লেবু কি সত্যিই সান ট্যান দূর করতে সাহায্য করে?
হ্যাঁ, লেবুতে থাকা ভিটামিন সি ত্বকের কালচে ভাব কমাতে এবং স্কিন টোন স্বাভাবিক করতে সাহায্য করতে পারে।
বেসনের ফেস প্যাক সপ্তাহে কতবার ব্যবহার করা উচিত?
সাধারণত সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার করলেই ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।
অ্যালোভেরা ও শসার প্যাক কি সব ধরনের ত্বকে ব্যবহার করা যায়?
বেশিরভাগ ত্বকে ব্যবহার করা গেলেও সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে আগে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া ভালো।
সান ট্যান দূর করতে কতদিন সময় লাগে?
ত্বকের ধরন ও ট্যানের পরিমাণ অনুযায়ী সময় আলাদা হতে পারে। নিয়মিত যত্ন নিলে ধীরে ধীরে ট্যান কমতে শুরু করে।
মধু ত্বকের জন্য কেন উপকারী?
মধু ত্বককে ময়েশ্চারাইজ রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বাড়াতে সহায়ক।
সানস্ক্রিন ব্যবহার করলেও কেন ট্যান পড়ে?
দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে বা ঠিকভাবে সানস্ক্রিন ব্যবহার না করলে ট্যান পড়তে পারে।
ঘরোয়া ফেস প্যাক ব্যবহার করার পর কী করা উচিত?
ফেস প্যাক ধুয়ে ফেলার পর হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক আরও নরম ও সতেজ থাকে।
