আজকের দিনে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের কাজের ধরন অনেকটাই বদলে দিচ্ছে। চ্যাটজিপিটি, জেমিনি-র মতো এআই টুল ব্যবহার করে মানুষ এখন খুব সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য, লেখালেখি, বিশ্লেষণসহ নানা ধরনের কাজ দ্রুত করে ফেলতে পারছেন। যে কাজের জন্য আগে অনেকটা সময় ও পরিশ্রমের প্রয়োজন হতো, এআই-এর সাহায্যে তা এখন কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই করা সম্ভব হচ্ছে। প্রতিদিনই আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে এই প্রযুক্তি এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা, গবেষণা থেকে শুরু করে প্রায় সব ক্ষেত্রেই নিজের প্রভাব বিস্তার করছে এআই। আগামী দিনে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এআই-এর ব্যবহার আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
কীভাবে মানুষের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা?
বিশ্বের অন্যতম ধনী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক (Elon Musk) এক পডকাস্টে এআই-এর ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বট প্রযুক্তি যেভাবে দ্রুত উন্নতি করছে, তাতে আগামী ১০ বছরের মধ্যেই মানুষের ওপর এর প্রভাব অনেক বেশি বাড়তে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ২০৩৬ সালের মধ্যে মানুষ প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে এবং পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। এখানে বট বলতে মূলত এমন স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার প্রোগ্রামকে বোঝানো হয়, যা ইন্টারনেটে মানুষের নির্দেশ ছাড়াই দ্রুত বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে পারে।
২০৩৬ সালের মধ্যে প্রযুক্তির দুনিয়ায় কী পরিবর্তন আসতে পারে?
ইলন মাস্কের মতে, এআই-চালিত বট ভবিষ্যতে এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে যে আগামী এক দশকের মধ্যেই তা মানুষের ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করবে। তাঁর দাবি, এই প্রযুক্তির বুদ্ধিমত্তা এমন পর্যায়ে পৌঁছতে পারে যেখানে মানুষের পক্ষে তার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়বে। মাস্ক মনে করেন, এআই এবং রোবটের ক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে এবং এগুলিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। যদি এআই এবং রোবটকে আটকে রাখার কোনও বোতাম থেকেও থাকে তাহলেও মানুষ তা আটকানোর কোনও চেষ্টা করবেনা বলেই মনে করছেন তিনি। এআই যে মানুষের বুদ্ধিকে ছাপিয়ে যাচ্ছে তা মেনে নিচ্ছেন অন্য অনেক বিশেষজ্ঞও।
