অফলাইন এবং অনলাইন— দু’ভাবেই চলছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের (Annapurna Bhandar) ফর্ম ফিলাপ। রাজ্যজুড়ে আয়োজিত তিন দিনের জনকল্যাণ শিবিরেও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারসহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে শুধু ফর্ম জমা দিলেই যে সঙ্গে সঙ্গে ৩০০০ টাকা পাওয়া যাবে, এমন নয়। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আবেদন করার পর নির্দিষ্ট নিয়মে নথি যাচাই ও যোগ্যতা পরীক্ষা করা হবে। যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর যাঁদের আবেদন অনুমোদিত হবে, তাঁদেরই নির্ধারিত পদ্ধতিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি জনকল্যাণ শিবিরে সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য আরও একাধিক পরিষেবা চালুর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈঠকে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নবান্নে জেলা শাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে তিনি নির্দেশ দেন, জনকল্যাণ শিবিরে আসা প্রত্যেক মানুষকে কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানাতে হবে। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব, মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা, ডিজিপি, স্বরাষ্ট্র সচিবসহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, তালিকাভুক্ত থাকুক বা না থাকুক— জনকল্যাণ শিবিরে সব ধরনের সরকারি প্রকল্পের আবেদনপত্র রাখতে হবে। এমনকি বর্তমানে বিধবা ভাতা বা বার্ধক্য ভাতার আবেদন প্রক্রিয়া বন্ধ থাকলেও মানুষের আবেদন গ্রহণ করে রাখতে হবে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন যে, ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পে ১ কোটি ৩ লক্ষ আবেদন যাচাই করা হয়েছে। তবে ফর্ম পূরণ করলেই সঙ্গে সঙ্গে ৩০০০ টাকা অ্যাকাউন্টে চলে আসবে কি না, তা নিয়ে বহু মহিলার মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করলে যোগ্য উপভোক্তারা অবশ্যই আর্থিক সহায়তা পাবেন, তবে তার আগে আবেদনকারীদের তথ্য ও যোগ্যতা যাচাই করা হবে। সরকারের লক্ষ্য, যাতে প্রকৃত উপভোক্তারাই এই প্রকল্পের সুবিধা পান এবং কোনো অনিয়ম না হয়। সেই কারণেই অতিরিক্ত যাচাই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যজুড়ে গত ১৫ জুন থেকে আজ অর্থাৎ ১৭ জুন পর্যন্ত বসছে জনকল্যাণ শিবির। রাজ্যের প্রত্যেকটি জেলায় একাধিক ক্যাম্প বসানো হচ্ছে প্রশাসনের তরফ থেকে। তবে এই শিবির সম্পর্কে আরও বেশি প্রচারের উপর জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রবীণ নাগরিকদের রোদের মধ্যে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, শিবির শেষে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রবীণ নাগরিকদের কাছে আবেদনপত্র পৌঁছে দেওয়া হবে। তীব্র গরমে যাতে অসুস্থতার সম্মুখীন না হতে হয় সাধারণ মানুষের তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা শাসকদের। ইতিমধ্যে রাজ্যজুড়ে মোট ২০৫০টি জনকল্যাণ শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে, এবং গতকাল পর্যন্ত শিবিরগুলিতে ২৪ লক্ষ মানুষ সহায়তা পেয়েছেন।
