পশ্চিমবঙ্গের লাখ লাখ চাকরিপ্রার্থীর জন্য বড় সুখবর সামনে এল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, রাজ্যে সরকার গঠন করতে পারলে সরকারি চাকরির আবেদনে বয়সসীমায় অতিরিক্ত ৫ বছরের ছাড় দেওয়া হবে। আর এবার রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতিই কার্যকর করার ঘোষণা এল। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা আগের তুলনায় আরও ৫ বছর বাড়ানো হবে।
চাকরিপ্রার্থীদের 5 বছরের বয়সে ছাড়
দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরির প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েও যাঁরা এখনও সফল হতে পারেননি, তাঁদের কাছে এই ঘোষণা অনেকটাই স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। জনতা পার্টি-র তরফে দাবি করা হয়েছিল, রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতির কারণে বহু যোগ্য চাকরিপ্রার্থী চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সেই সঙ্গে সময়ের সঙ্গে অনেকের বয়সও বেড়ে গিয়েছে, ফলে আগের বয়সসীমার নিয়মে অনেকেই আবেদন করার সুযোগ হারাচ্ছিলেন। তাই চাকরিপ্রার্থীদের প্রতি সুবিচার করতেই সরকারি চাকরির আবেদনের বয়সসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেছে সরকার।
কারা এই বয়সের ছাড়ের সুবিধা পাবেন?
বিজেপি-র সংকল্প পত্রে করা ঘোষণার ভিত্তিতে এই বয়সসীমার অতিরিক্ত ৫ বছরের ছাড় রাজ্যের প্রায় সমস্ত চাকরিপ্রার্থীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে চলেছে। সাধারণ শ্রেণির প্রার্থীদের পাশাপাশি SC, ST, OBC-সহ বিভিন্ন সংরক্ষিত বিভাগের চাকরিপ্রার্থীরাও এই সুবিধা পাবেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সংরক্ষিত ক্যাটেগরির প্রার্থীরা আগে থেকেই সরকারি চাকরির আবেদনে নির্দিষ্ট বয়সের ছাড় পেতেন। তবে নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সেই বিদ্যমান ছাড়ের সঙ্গে আরও অতিরিক্ত ৫ বছর যোগ হবে, ফলে বহু প্রার্থী নতুন করে চাকরির পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন।
আগের বয়সসীমা বনাম নতুন বয়সসীমা
| ক্যাটাগরি | আগের সর্বোচ্চ বয়স | নতুন সম্ভাব্য বয়স |
| সাধারণ (General) | ৪০ বছর | ৪৫ বছর |
| ওবিসি (OBC) | ৪৩ বছর | ৪৮ বছর |
| এসসি/এসটি (SC/ST) | ৪৫ বছর | ৫০ বছর |
কবে থেকে চালু হচ্ছে নতুন বয়সসীমা?
১১ মে ২০২৬ রাজ্যের মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, খুব শীঘ্রই এই নিয়ম লাগু হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্য সরকারের সমস্ত চাকরিতে শূন্যপদ পূরণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। যার ফলে এই ছাড়ের সুবিধা নিয়ে প্রার্থীরা শীঘ্রই আবেদনের সুযোগ পাবেন মনে করা হচ্ছে। তবে স্কুল সার্ভিসের নিয়োগের ক্ষেত্রে এই নিয়ম বিশেষভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এরকম গুরুত্বপূর্ণ আপডেট সবার আগে পেতে আমাদের WHATSAPP চ্যানেলে যুক্ত হন
