রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠে এসেছে—সরকারি হাসপাতালে বেডের অভাব, চিকিৎসক সংকট থেকে শুরু করে চিকিৎসার খরচের চাপ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। এর মধ্যেই সরকার বদলের পর স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে । নতুন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সরকারি হাসপাতালের ওপর চাপ কমাতে এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা সহজলভ্য করতে বেসরকারি হাসপাতালগুলিকেও আরও বেশি করে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। কিন্তু এবার সরকারের পালাবদল হতেই নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Sharadwat Mukherjee), যিনি পেশায় নিজেও একজন ডাক্তার। কুর্সিতে বসেই বড় ঘোষণা করলেন তিনি। এবার থেকে বেসরকারি হাসপাতালেও মিলবে ফ্রিতে পরিষেবা।
স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে বড় ঘোষণা মন্ত্রীর (Sharadwat Mukherjee)
এতদিন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে যাওয়ার আগে খরচের কথা ভেবে বহু পরিবারকে বারবার ভাবতে হতো। তবে এবার রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। নতুন স্বাস্থ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সরকারি হাসপাতালে বেড না পাওয়া গেলে নির্দিষ্ট শর্তে বেসরকারি হাসপাতালেও বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি সহায়তা বা বিশেষ সুবিধা পাওয়া বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে নির্দিষ্ট সংখ্যক বেড বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য সংরক্ষণ রাখতে হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে এর আগে থেকেই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতালগুলির জন্য ১০% ইনডোর ও ২০% আউটডোর রোগীকে বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়ার নিয়ম ছিল। তবে আধার কার্ড দেখালেই সবার জন্য সরাসরি পরিষেবা মিলবে কি না, অথবা কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে এই সুবিধা দেওয়া হবে—সে বিষয়ে সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
আগের সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা কাটমানির অভিযোগ তুলে নতুন স্বাস্থ্য প্রশাসনের তরফে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে যে স্বাস্থ্য পরিষেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো হবে। সেইসঙ্গে সরকারি হাসপাতালে বেডের চাপ কমাতে নতুন পরিকল্পনার কথাও সামনে এসেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে বেড না থাকলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে রোগীদের কাছাকাছি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এই সুবিধা সব বেসরকারি হাসপাতালের জন্য নয়—মূলত যেসব হাসপাতাল সরকার থেকে জমি বা বিশেষ সুবিধা পেয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট সংখ্যক বেড বিনামূল্যে রাখার নিয়ম আগে থেকেই রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, এমন হাসপাতালগুলিকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল রোগীদের জন্য ১০% ইনডোর ও ২০% আউটডোর পরিষেবা বিনামূল্যে দেওয়ার শর্ত মানতে হয়। নতুন উদ্যোগে এই ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগ ও রেফারেল প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হতে পারে।
কিন্তু এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে এখনও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে বলেই জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এমনকি তার জন্য টোল ফ্রি নম্বর চালু করা হবে। যার ফলে সাধারণ মানুষ খুব সহজেই যোগাযোগ করে নিতে পারবে। আর বিজ্ঞাপনও দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যদি এই নিয়ম চালু হয়, তাহলে রাজ্যজুড়ে সাধারণ নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষজন অনেকটাই উপকৃত হবে এবং রোগী মৃত্যুর হারও অনেকটাই কমবে।
