সাদিকুল খান,কলকাতাঃ দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে মাত্র ১২০ টাকার মটন পোলাওকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। অভিযোগ উঠেছে, খাসির মাংসের বদলে ওই মটন পোলাওয়ে অন্য কোনও প্রাণীর মাংস পরিবেশন করা হয়েছে। এমনকি সেটি বেড়ালের মাংস বলেও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে মাংসটি আসলে বেড়াল নাকি অন্য কোনও প্রাণীর, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ঘটনার সত্যতা জানতে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কলকাতায় পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে এলেই বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।
কীভাবে সামনে এল এই ঘটনা?
ঘটনার সূত্রপাত এক ক্রেতার অভিযোগ থেকেই। জানা গিয়েছে, গঙ্গারামপুরের একটি দোকান থেকে মটন পোলাও কিনে খাওয়ার পর মাংসের টুকরো দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। এরপর তিনি দোকানে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। দোকানের ফ্রিজে রাখা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে তা সিল করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি যে জায়গা থেকে ওই মাংস সরবরাহ করা হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে, সেখানেও প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরাও পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। খাবার এবং মাংসের নমুনা পরীক্ষার জন্য ইতিমধ্যেই কলকাতায় পাঠানো হয়েছে। তাই পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত মাংসটি আসলে কোন প্রাণীর, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে দোকানের মালিক বাঞ্ছা কুন্ডু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, “এমনটা হতেই পারে না। আমি দীর্ঘদিন ধরে একই জায়গা থেকে মাংস কিনি। আগে কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি।” বিক্রেতার মেয়ে নন্দিতারও দাবি, তাঁদের দোকানের খাবারের মান নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, “আমরাও এই মাংস নিজেদের বাড়িতে খাই।”
অন্যদিকে, ওই দোকানের ফুড লাইসেন্স নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, কয়েকদিন আগেও খাদ্য সুরক্ষা দফতরের তরফে দোকানটিতে পরিদর্শন করা হয়েছিল এবং রান্নাঘরের পরিবেশ নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। ফুড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার কথাও জানানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু লাইসেন্সের জন্য কোন আবেদন করা হয়নি। তাই জন্য দোকানটি বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। নমুনার রিপোর্ট সামনে আসার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
