সিলিন্ডারে গ্যাস লিক! বিপদ এড়াতে বাড়িতেই যেভাবে চেক করবেন

-

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জীবনযাত্রায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। একসময় বাড়িতে মাটির উনুনে রান্না করা হলেও এখন প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই রান্নার কাজে LPG গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়। তবে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখা দরকার। সামান্য অসাবধানতার কারণেও সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক হতে পারে এবং সেখান থেকেই মুহূর্তের মধ্যে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই রান্নার সময় যেমন সতর্ক থাকা জরুরি, তেমনই গ্যাস সিলিন্ডার, পাইপ ও রেগুলেটরের অবস্থাও নিয়মিত পরীক্ষা করে দেখা উচিত।

সিলিন্ডার লিক থেকে হতে পারে ভয়ংকর দুর্ঘটনা

বাড়িতে LPG সিলিন্ডার ব্যবহার করার সময় নিয়মিত লিকেজের সমস্যা রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ গ্যাস লিক হলে সামান্য অসাবধানতা থেকেও আগুন লাগা, বিস্ফোরণ এমনকী প্রাণহানির মতো বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে অনেকেই জানেন না কীভাবে সহজে বোঝা যায় সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক হচ্ছে কি না। তাই গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের আগে এবং প্রয়োজনে কীভাবে লিকেজ পরীক্ষা করবেন, সেই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি জেনে নেওয়া জরুরি।

গ্যাস লিক চেক করার জরুরি টিপস

  • সিলিন্ডারে গ্যাস রেগুলেটর যেখানে বসানো থাকে, সেখানে লিকেজ পরীক্ষা করতে সাধারণ জল নয়, সাবান মেশানো জল ব্যবহার করা ভালো। রেগুলেটর ও সংযোগস্থলে সাবানজল লাগিয়ে দেখুন। সেখানে বুদবুদ তৈরি হতে থাকলে গ্যাস লিকের সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজে থেকে সংযোগ খুলে বা মেরামত করার চেষ্টা না করে দ্রুত গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
  • রান্নার সময় গ্যাসের গন্ধ পেলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক হতে হবে। কোনওভাবেই লাইটার, দেশলাই বা বৈদ্যুতিক সুইচ ব্যবহার করবেন না। নিরাপদ হলে গ্যাসের রেগুলেটর বন্ধ করে দরজা-জানালা খুলে ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন। এরপর আগুন বা বৈদ্যুতিক স্পার্কের কোনও উৎস থেকে দূরে সরে গিয়ে গ্যাস এজেন্সি বা জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
  • অনেক সময় রাবারের পাইপ পুরনো হয়ে গেলে বা ফেটে গেলে গ্যাস বেরতে থাকে। তাই নিয়মিত পাইপ পরীক্ষা করা খুব জরুরি। এর জন্য গ্যাস পাইপের ওপর সাবান জল লাগালে যদি কোথাও বুদবুদ ওঠে, তাহলে বুঝতে হবে সেখান থেকেই গ্যাস লিক হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
  • বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ গ্যাস দুর্ঘটনাই অসাবধানতার কারণে ঘটে। তাই একটু সচেতন থাকলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব। কখনোই রান্নাঘরে ধূমপান করবেন না এবং রান্না শেষ হলে শুধু গ্যাস নয়, রেগুলেটরও বন্ধ করুন। পাশাপাশি বছরে অন্তত একবার গ্যাস লাইন পরীক্ষা করান।
Breaking News