Gold Price Big Update: বড় সুখবর! সস্তা হতে চলেছে সোনা, কত কমবে ১ গ্রামের দাম?

-

জানারুল খান, কলকাতাঃ উৎসবের মরশুম শুরু হওয়ার আগেই সোনার দাম পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সামনে উৎসবের সময় সোনার চাহিদা আরও বাড়তে পারে, ফলে দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের উপর চাপ কমাতে এবং সোনার দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার আমদানি শুল্ক কমানোর কথা ভাবছে। চলতি বছরের মে মাসে সোনা ও রুপোর আমদানি নিয়ন্ত্রণে শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছিল। এবার বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেই আমদানি শুল্ক ফের কমানো যায় কি না, তা নিয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে।

এই বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত তিনটি সূত্রের দাবি, সোনা ও রুপোর উপর আমদানি শুল্ক বাড়ানোর পর থেকেই অবৈধভাবে সোনা পাচারের প্রবণতা বেড়েছে। করের অতিরিক্ত বোঝা এড়াতে সোনার অবৈধ ব্যবসা বাড়ছে, যার প্রভাব বাজারদরের উপরও পড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এখনও আমদানি শুল্ক কমানোর বিষয়ে সরকার কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি, তবে উৎসবের মরশুমে ক্রেতাদের স্বস্তি দিতে শুল্ক কমানোর ঘোষণা আসতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে। শিল্পমহলের দাবি, বুলিয়ন ব্যবসায়ী ও জুয়েলাররা দীর্ঘদিন ধরেই সোনা ও রুপোর আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ শতাংশ করার দাবি জানিয়ে আসছেন।

- Advertisement -

কেন আমদানি শুল্ক বাড়ানো হয়েছিল?

তেলের খাতে বাড়তে থাকা চাপ এবং ডলারের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার ১৩ মে, ২০২৬ তারিখে সোনা ও রুপোর উপর আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছিল। এই সিদ্ধান্তের পর ভারতীয় বাজারে দুই মূল্যবান ধাতুর চাহিদা কিছুটা কমে যায়, ফলে আমদানির কারণে বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারের উপর চাপও কমে। যদিও সেই সময় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপোর দাম কিছুটা কমেছিল, বর্তমানে সোনার দাম ফের দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। খুচরো বাজারে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ১.৬৫ লক্ষ টাকায় পৌঁছে যাওয়ায় উৎসবের মরশুমে সাধারণ ক্রেতাদের উপর বাড়তি চাপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সোনার দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং উৎসবের সময় ক্রেতাদের স্বস্তি দিতে সরকার আমদানি শুল্ক কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা যাচ্ছে।

সোনা পাচারেও লাগাম পড়বে

শিল্পমহলের মতে, ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় সোনা আমদানিকারক দেশ এবং প্রতি বছর দেশে প্রায় ৮০০ টন সোনা আমদানি হয়। একই সঙ্গে ভারত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE), থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের মতো বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণে সোনার গয়না রফতানি করা হয়। ফলে সোনার উপর আমদানি শুল্ক বাড়লে একদিকে অবৈধভাবে সোনা পাচারের প্রবণতা বাড়ার আশঙ্কা থাকে, অন্যদিকে ভারত থেকে রফতানি হওয়া গয়নার দামও আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও পড়ে এবং সোনা ও রুপোর খুচরো দাম আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।

- Advertisement -

দেশে বাড়ছে সোনা আমদানি

ভারতে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে সোনা আমদানি ৮২ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের উপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সারা বছর ধরে সোনা কেনার পরিমাণ কমানোর জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন করেছিলেন। এরপর মে মাসে সোনা আমদানি আরও ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। তবে বাড়ানো আমদানি শুল্কের প্রভাব ধীরে ধীরে বাজারে পড়তে শুরু করে। শুল্ক বৃদ্ধির পরবর্তী দুই মাস জুন ও জুলাইয়ে সোনা আমদানি ৫.৫ শতাংশ বেড়ে ৬.১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যেখানে এক বছর আগে একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৫.৮১ বিলিয়ন ডলার।

- Advertisement -

কতটা সস্তা হতে পারে সোনা?

বর্তমানে সোনার উপর আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ ধরা হলে, বিদেশ থেকে ১ লক্ষ টাকার সোনা আমদানি করতে ১৫,০০০ টাকা শুল্ক দিতে হয়, ফলে মোট খরচ দাঁড়ায় ১.১৫ লক্ষ টাকা। সরকার যদি এই আমদানি শুল্ক কমিয়ে ৬ শতাংশ করে, তাহলে শুল্কের হার ৯ শতাংশ পয়েন্ট কমবে। ২৬ আগস্ট, বুধবার লখনউয়ে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৬৩,৭৫০ টাকা ছিল। সেই হিসাবে আমদানি শুল্কের হার ৯ শতাংশ পয়েন্ট কমলে, অন্য সব খরচ ও বাজার পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে, সোনার দাম আনুমানিক ১,৫০,৯৩৫ টাকা পর্যন্ত নামতে পারে। অর্থাৎ প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১২,৮১৫ টাকা সাশ্রয় হতে পারে এবং দাম প্রায় ৭.৮৩ শতাংশ কমার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

Breaking News