Homeপশ্চিমবঙ্গপশ্চিমবঙ্গের পাঠ্যবইয়ে বড় বদলের জল্পনা, ফিরতে পারে ‘রামধনু’ শব্দ!

পশ্চিমবঙ্গের পাঠ্যবইয়ে বড় বদলের জল্পনা, ফিরতে পারে ‘রামধনু’ শব্দ!

-

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যবাসীর স্বার্থে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Government Of West Bengal)। এবার রাজ্যের স্কুল পাঠ্যক্রমে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। জানা গিয়েছে, স্কুলের পাঠ্যবইয়ে ব্যবহৃত কিছু শব্দে সংশোধন আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। তার মধ্যে ‘রংধনু’ শব্দের পরিবর্তে ‘রামধনু’ ব্যবহারের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে বলেই সূত্রের খবর। পাশাপাশি, বাংলার স্কুলের পাঠ্যবইয়ে ব্যবহৃত কিছু বিদেশি বা আরবি উৎসের শব্দ নিয়েও পর্যালোচনার ভাবনা রয়েছে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

পূর্বতন সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত ধোপে টিকল না! (Government Of West Bengal)

কমবেশি অনেকেই জানেন, 2017 সাল নাগাদ তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলির পাঠ্য বইয়ে রামধনু শব্দের ব্যবহার হবে না। এর বদলে ব্যবহার হবে রংধনু। এ নিয়ে এক অদ্ভুত যুক্তি দেখিয়েছিল রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দল। বলা হয়েছিল, রামধনু শব্দটির মধ্যে রাম শব্দ রয়েছে। এই শব্দ ব্যবহার করলে বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আঘাত আসতে পারে। নষ্ট হতে পারে সেই মেলবন্ধন। তাই রামধনুর বদলে ব্যবহার করতে হবে রংধনু শব্দ।

রামধনু শব্দের ব্যবহার নিয়ে অতীতে পশ্চিমবঙ্গের পাঠ্যবইকে ঘিরে নানা বিতর্ক ও আলোচনা তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি একাধিকবার আলোচনায় এসেছে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাজ্যের শিক্ষা নীতি ও পাঠ্যবইয়ে কিছু সংশোধন আনার জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে পাঠ্যবইয়ের ভাষা ও শব্দচয়ন নিয়ে পর্যালোচনার আলোচনা চলছে বলে জানা যাচ্ছে। এর মধ্যে ‘রামধনু’ শব্দের পুনরায় ব্যবহার এবং কিছু বিদেশি উৎসের শব্দ নিয়ে পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারিভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সামনে এলে তবেই স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।

এই বিষয়টি নিয়ে রাজ্য বিজেপির এক শীর্ষ নেতার প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে বলে জানা যাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, পাঠ্যবইয়ে শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অযথা বিতর্ক বা জোরপূর্বক পরিবর্তনের বদলে প্রাসঙ্গিক ও উপযুক্ত শব্দই থাকা উচিত। একইসঙ্গে, বাংলা ভাষার পাঠ্যবইয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন শব্দের প্রয়োগ নিয়েও পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন। ‘পানি’, ‘গোসল’ বা ‘সাবেক’-এর মতো কিছু শব্দের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা তুলে তিনি জানান, ভবিষ্যতে পাঠ্যবই প্রকাশের সময় ভাষা ও শব্দচয়নের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। তবে এই ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক স্তরে এলেও, শিক্ষা দফতরের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

- Advertisement -
- Advertisement -

Breaking News

- Advertisement -

Related Stories

- Advertisement -