রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সৌরভ গাঙ্গুলির নিরাপত্তা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। জানা যাচ্ছে, ভারতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ও বিসিসিআইয়ের প্রাক্তন সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলির Z প্লাস ক্যাটাগরির বদলে এবার Y ক্যাটাগরির নিরাপত্তা রাখা হতে পারে। তবে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, এই সিদ্ধান্ত সরাসরি রাজনৈতিক নয়; সাধারণত কোনও বিশিষ্ট ব্যক্তির নিরাপত্তা কতটা থাকবে তা নির্ধারণ করা হয় গোয়েন্দা রিপোর্ট, সম্ভাব্য হুমকির মাত্রা এবং সময়ে সময়ে হওয়া নিরাপত্তা পর্যালোচনার ভিত্তিতে। অর্থাৎ ঝুঁকির মূল্যায়নে পরিবর্তন এলেই নিরাপত্তার স্তরও বাড়তে বা কমতে পারে।
হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের?
“পূর্বতন শাসকদলের আমলে যা হয়েছে সেসব ভুলে যান”— বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর এমন বার্তাই দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নেতা-মন্ত্রী থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি নবান্নে এক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কোনও রাজনীতিক বা জনপরিচিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে যদি বাস্তবিক নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকে, তাহলে শুধু প্রথা মেনে বা অতিরিক্তভাবে নিরাপত্তা দেওয়ার পক্ষপাতী নয় সরকার। প্রশাসনের দাবি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং গোয়েন্দা রিপোর্ট ও ঝুঁকির মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করেই নির্ধারণ করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতোই শুরু হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনদের নিরাপত্তা পর্যালোচনা। সেই মতোই, রাজ্য সরকারের কঠিন সিদ্ধান্তের কোপে পড়েন তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তুলে নেওয়া হয় ডায়মন্ড হারবারের সংসদের Y ক্যাটাগরির নিরাপত্তা। তবে শুধু রাজনীতিক নন সেই সাথে অন্যান্য জগতের বিশিষ্ট তারকাদের নিরাপত্তা প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখছিল প্রশাসন। এবার সেই সূত্র ধরেই, CAB প্রধান তথা ভারতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভের Z ক্যাটাগরির নিরাপত্তা তুলে নিচ্ছে রাজ্য সরকার। বদলে দাদা পাবেন Y ক্যাটাগরির সিকিউরিটি।
উল্লেখ্য, অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা বড়সড় গাড়ির কনভয় নিয়ে শুভেন্দু সরকারের অবস্থান শুরু থেকেই বেশ কড়া বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। সরকারের যুক্তি, কোনও রাজনীতিক বা বিশিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে বাস্তবিক নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকলে অতিরিক্ত নিরাপত্তার তেমন প্রয়োজন নেই। সেই কারণেই ধাপে ধাপে বিভিন্ন নেতা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও পরিচিত মুখদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সৌরভ গাঙ্গুলির নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, আর তার জেরেই জল্পনা তৈরি হয়েছে— আগামী দিনে রাজ্য ও কলকাতার আরও কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও বদল আসতে পারে।
